গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। বালু ভরাট ও মাত্র ৪০টি কলাম নির্মাণের পর কাজ ফেলে ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আসন্ন বন্যায় চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগারির পোড়ারচরে (৮ নম্বর ওয়ার্ড) সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে শুধু বালু পড়ে আছে। গবাদিপশুর জন্য প্রস্তাবিত একতলা ভবনের মাত্র ৪০টি কলামের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। যত্রতত্র পড়ে থাকা মিক্সার মেশিন ও টিউবওয়েলে মরিচা ধরেছে। শ্রমিকদের থাকার ঘরটিও ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই প্রকল্পের জন্য তারা প্রায় ১২ বিঘা আবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এন্তাজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ ২৪ সালের আগেই আমরা আবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছি। এক বিঘা জমিতে ৪০-৫০ মণ ভুট্টা হতো। ফসলও হারালাম, আশ্রয়কেন্দ্রও পেলাম না। সরকার আমাদের বিপদে ফেলেছে।’
নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরাও। শ্রমিক মো. ফজলু মিয়া অভিযোগ করেন, ‘পিআইও বা ঠিকাদার কেউ আর আসেন না, ফোনও ধরেন না। ৫-৬ মাস কাজ করে আমরা কয়েক লাখ টাকা মজুরি পাব, সেই টাকাও পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষাণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে কবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি বলতে পারেননি। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দায়ও তিনি এড়িয়ে যান।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরে গিয়েও তাকে দেখা যায়নি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। আগামী সভায় মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ১ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। বালু ভরাট ও মাত্র ৪০টি কলাম নির্মাণের পর কাজ ফেলে ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আসন্ন বন্যায় চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি বোচাগারির পোড়ারচরে (৮ নম্বর ওয়ার্ড) সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে শুধু বালু পড়ে আছে। গবাদিপশুর জন্য প্রস্তাবিত একতলা ভবনের মাত্র ৪০টি কলামের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। যত্রতত্র পড়ে থাকা মিক্সার মেশিন ও টিউবওয়েলে মরিচা ধরেছে। শ্রমিকদের থাকার ঘরটিও ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই প্রকল্পের জন্য তারা প্রায় ১২ বিঘা আবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এন্তাজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ ২৪ সালের আগেই আমরা আবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছি। এক বিঘা জমিতে ৪০-৫০ মণ ভুট্টা হতো। ফসলও হারালাম, আশ্রয়কেন্দ্রও পেলাম না। সরকার আমাদের বিপদে ফেলেছে।’
নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরাও। শ্রমিক মো. ফজলু মিয়া অভিযোগ করেন, ‘পিআইও বা ঠিকাদার কেউ আর আসেন না, ফোনও ধরেন না। ৫-৬ মাস কাজ করে আমরা কয়েক লাখ টাকা মজুরি পাব, সেই টাকাও পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উষাণ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে কবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি বলতে পারেননি। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দায়ও তিনি এড়িয়ে যান।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার দপ্তরে গিয়েও তাকে দেখা যায়নি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ আছে। আগামী সভায় মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন