সংবাদ

হবিগঞ্জে বন্যায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলহানি, দিশেহারা ২১ হাজার কৃষক


প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

হবিগঞ্জে বন্যায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলহানি, দিশেহারা ২১ হাজার কৃষক
কেটে রাখা ধান খলাতেই পচে নষ্ট হচ্ছে। ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের কৃষক মহাদেব দাস। ১৯ বিঘা জমি বর্গা চাষ করতে ধারদেনা করে খরচ করেছিলেন আড়াই লাখ টাকা। মাত্র ২ বিঘা জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরেছিলেন, বাকি ১৭ বিঘা জমি এখন পানির নিচে। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার স্বপ্ন। 

মহাদেব জানান, যেটুকু ধান কেটে খলায় রাখা হয়েছিল, রোদের অভাবে সেগুলোও পচে যাচ্ছে। এখন দেনা পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা এই কৃষক।

মহাদেব দাসের মতো একই অবস্থা জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২১ হাজার কৃষকের। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিমেষেই তলিয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৫টি হাওরের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা।

কৃষি বিভাগ জেলায় ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, মাত্র ৩০ শতাংশ ধান কাটার পরই বানের পানি চলে আসে। বানিয়াচংয়ের আতুকুড়া ও বাহুবলের গুঙ্গিয়াজুরি হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি তো বটেই, এমনকি উঁচু জমিও এখন প্লাবিত। জেলার সদর উপজেলার সুলতানশী, শরীফপুর ও চানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরাও এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত পানি না নামলে এবং রোদ না উঠলে ঘরে তোলা কাটা ধানটুকুও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৩৪০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


হবিগঞ্জে বন্যায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলহানি, দিশেহারা ২১ হাজার কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের কৃষক মহাদেব দাস। ১৯ বিঘা জমি বর্গা চাষ করতে ধারদেনা করে খরচ করেছিলেন আড়াই লাখ টাকা। মাত্র ২ বিঘা জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরেছিলেন, বাকি ১৭ বিঘা জমি এখন পানির নিচে। চোখের সামনে তলিয়ে গেছে তার স্বপ্ন। 

মহাদেব জানান, যেটুকু ধান কেটে খলায় রাখা হয়েছিল, রোদের অভাবে সেগুলোও পচে যাচ্ছে। এখন দেনা পরিশোধের চিন্তায় দিশেহারা এই কৃষক।

মহাদেব দাসের মতো একই অবস্থা জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ২১ হাজার কৃষকের। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিমেষেই তলিয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ৫টি হাওরের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা।

কৃষি বিভাগ জেলায় ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, মাত্র ৩০ শতাংশ ধান কাটার পরই বানের পানি চলে আসে। বানিয়াচংয়ের আতুকুড়া ও বাহুবলের গুঙ্গিয়াজুরি হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমি তো বটেই, এমনকি উঁচু জমিও এখন প্লাবিত। জেলার সদর উপজেলার সুলতানশী, শরীফপুর ও চানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরাও এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত পানি না নামলে এবং রোদ না উঠলে ঘরে তোলা কাটা ধানটুকুও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৩৪০ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত