নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদের বিপরীতে কেন্দ্রটি এখন চলছে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে। চিকিৎসা ও জনবল সংকটের পাশাপাশি পানির পাম্প নষ্ট থাকায় একমাত্র শৌচাগারটিও দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার), উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক-এই চারটি পদ রয়েছে। তবে বর্তমানে শুধু ফার্মাসিস্ট তাহমিনা দায়িত্ব পালন করছেন।
সরেজমিনে গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে তালা ঝুলছে। সংবাদকর্মী আসার খবর পেয়ে ১০ মিনিট পর ফার্মাসিস্ট তাহমিনা ছুটে এসে কক্ষের তালা খোলেন। শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় তিনি পাশের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পরেই সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীকে তিনি কোনো ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ওষুধ দিয়ে দেন।
ফার্মাসিস্ট তাহমিনা বলেন, ‘আইন অনুযায়ী আমার কাজ ওষুধ সরবরাহ করা এবং নিয়ম বলে দেওয়া। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে আমাকেই দেখতে হয়। এমনকি হাসপাতালের দুটি কক্ষ, বারান্দা ও চারপাশ ঝাড়ু দেওয়ার কাজও আমাকেই করতে হয়। হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাবে বলে এক দিনের জন্য ছুটিও নিতে পারছি না।’
জানা যায়, কেন্দ্রের সর্বশেষ মেডিকেল অফিসার ডা. রাবেহা মাহমুদ ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চলে যান। উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান সম্প্রতি বদলি হয়ে ঘোড়াশাল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া অফিস সহায়কের পদটিও দীর্ঘ বছর ধরে শূন্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নামমাত্র ওষুধ পাওয়া গেলেও জটিল সমস্যার সমাধান মিলছে না। অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগ ও শৌচাগারসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন