গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা চরাঞ্চলে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অসুস্থ এক রোগীকে খাটিয়ার মতো করে কাঁধে ঝুলিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া চরে এই ঘটনা ঘটে। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও রোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই চরের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাক্কা দেওয়ানী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃষ্টির কারণে চরের পথ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নদীতে পানি কম থাকায় নৌকা চলাচলও বন্ধ। চরের একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়িও চলাচলের উপায় নেই। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা কাঠের তক্তার ওপর রোগীকে শুইয়ে রশি দিয়ে বেঁধে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে রোববার তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাক্কা দেওয়ানীর স্বজনেরা বলেন, বাড়ি থেকে হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। রাস্তাঘাট না থাকায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যে সময় ও কষ্ট হয়েছে, তাতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান আজও বদলায়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের মতো মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দ্রুতগতির কোনো যানবাহন সেখানে পৌঁছাতে পারে না। বর্ষা বা গ্রীষ্ম-সব ঋতুতেই চরের মানুষের ভোগান্তি একই রকম।
শ্যামরায়ের পাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। শিক্ষকদেরও পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, সুন্দরগঞ্জের ছয়টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার ৩০টি চরের মানুষের একই অবস্থা। প্রতিবছর রাস্তা মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয় না। বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে চরের মানুষের সীমাহীন কষ্ট করতে হয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেন, চরাঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে সেখানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো সম্ভব হয় না। বিকল্প উপায়ে অনেক কষ্টে রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, দুর্গম চরে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা বেশ কঠিন। তবে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আপনার মতামত লিখুন