সংবাদ

পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ মডেল দেখতে চায় বাংলাদেশ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ মডেল দেখতে চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মাদক চোরাচালান রোধ, নগর নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সনাক্তকরণ জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের ৪০টির বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব) গত বছর ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির 'সেফ সিটি' মডেল পরিদর্শন করেছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিল বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে কাজ করেছে। তিনি মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফর করবেন বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ মডেল দেখতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মাদক চোরাচালান রোধ, নগর নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সনাক্তকরণ জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের ৪০টির বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব) গত বছর ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির 'সেফ সিটি' মডেল পরিদর্শন করেছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিল বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে কাজ করেছে। তিনি মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফর করবেন বলে জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত