সংবাদ

ঢাকা ছেড়ে শেকড়মুখী জনস্রোত, খুশির ভোগান্তি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১২:২৯ এএম

ঢাকা ছেড়ে শেকড়মুখী জনস্রোত, খুশির ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। অনেকেই ছাড়ার অপেক্ষায়। ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্মুখ টার্মিনাল যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শুধু ভিড়, চাপ আর ব্যস্ততার রঙে নয়, ঘর ফেরার উত্তেজনায়।

গাবতলী, মহাখালি, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ- যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই দিনভর দেখা গেছে শুধু মানুষ। হাতে ব্যাগ, কাঁধে শিশু, মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাড়ি ফেরার তৃপ্তির হাসি। ঈদ মানেই ফিরে যাওয়া সেই শেকড়ের ঠিকানায়। যেখানে অপেক্ষা করে থাকেন মা-বাবা, ভাই-বোন আর শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি।

রাজধানীর উত্তরের মূল প্রবেশপথ গাবতলী বাস টার্মিনাল। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই এখানে যেন ভিন্ন রূপ। রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যের বাস কাউন্টারগুলোতে মানুষের ভিড়।

টাঙ্গাইলগামী যাত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরে বাস ধরতে এসেছি। সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাব। মায়ের কোলে ফিরে যাব।ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত। পানি, শুকনো খাবার, শিশুদের জন্য চিপস-চকলেট নিয়ে সাজানো ছোট ছোট দোকান। বিক্রি ভালো, মুখে হাসি।

মহাখালি বাস টার্মিনালেও যাত্রীরা ছুটছেন বিভিন্ন কাউন্টারের দিকে। বেশির ভাগ বাসের কাউন্টারের সামনেই লম্বা লাইন।যাত্রীরা বলছেন, বাস কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষার পর ছাড়ছে।

সিলেটগামী এক যাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ‘ছোট মেয়েকে নিয়ে অপেক্ষা করছি। কিন্তু মেয়েটি কাঁদছে না বরং বলছে—আম্মু, আমরা কি নানুবাড়ি যাচ্ছি? তাদের মুখ দেখেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

ঢাকার নৌ-প্রবেশপথ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের চিত্রও একই। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর- দক্ষিণের জেলাগুলোর যাত্রীরা এখান থেকেই যান নৌকায়, লঞ্চে, স্পিডবোটে।

ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। হাতে বস্তা, কাঁধে ব্যাগ, গলায় ছোট্ট শিশু- সবাই কোনোমতে জায়গা করে নিচ্ছেন লঞ্চে। ভোলাগামী যাত্রী জসিম মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবার ঈদেই সদরঘাট ভোগান্তি। তবুও বাড়ি যেতে হবে। নৌপথে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা, কিন্তু শেষে গ্রামের বাড়ি পৌঁছেই সব কষ্ট ভুলে যাই।’

ঘাট এলাকায় খোলা চায়ের দোকান, মুড়ির দোকান, ফলের দোকানেও বেচাকেনা চোখে পড়ার মতো।

ঢাকার প্রাণকেন্দ্র যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড় এলাকা বছরের অন্য সময় যেখানে যানজট ও কোলাহলের নামান্তর, সেখানে ঈদ আসলেই তা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। প্রায় পুরো দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের যাত্রীরা এখান থেকেই রওনা দেন।

দুপুরের পর থেকেই এলাকায় বাড়ে চাপ। সন্ধ্যার দিকে অবস্থা আরও ঘোরালো হয়। বাসের হর্ন, যাত্রীদের ডাকাডাকি, হেলপারদের চিৎকার- সব মিলে এক মাতোয়ারা পরিবেশ।

ধোলাইপাড় এলাকায় শিশুদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে। মা-বাবা কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মুখে মাস্ক, হাতে ছোট ব্যাগ নিয়ে বড়দের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে।ঢাকার পূর্বপ্রান্তের সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের চিত্রও প্রায় একই।

মাদারীপুরগামী রিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ে করে ঢাকায় এসেছি দুই বছর। এবার প্রথম বাচ্চা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি। টিকিট কিনতে কষ্ট হয়েছে, কিন্তু বাসে উঠেই যেন স্বস্তি লাগছে।’

শুধু যাত্রী নয়, ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর ফুটপাতের বিক্রেতারা। গাবতলী, মহাখালি, যাত্রাবাড়ী- সর্বত্রই চোখে পড়ে অস্থায়ী দোকানের সমাহার। পানীয়, শুকনো খাবার, বিস্কুট, চিপস, শিশুখাদ্য, এমনকি নতুন জামা-জুতো পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতে।

এক ফল বিক্রেতা সালমান বলেন, ‘গাবতলীতে আছি দশ বছর। ঈদের আগের তিন দিন বেচাকেনা অন্যবারের চেয়ে দ্বিগুণ। মানুষ ভিড়ে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু পানি আর ফলের চাহিদা থাকে বেশি।’

এক বাস হেলপার রাজিব বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাড়া নেই। একটা বাস ছাড়ি, পরের লাইনে। চার ঘণ্টা ঘুমও ঠিকমতো হয় না। তবে বোনাস পাব আর যাত্রীদের মুখে হাসি দেখলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

ঈদযাত্রার বাস্তব চিত্র শুধু আনন্দমুখর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ভোগান্তি ও অভিযোগও। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ জায়গাতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০-৫০ শতাংশ বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী এলাকায় এই অভিযোগ বেশি।

সবপথেই ঘরে ফেরার খুশি

যানজটের কারণে বাস সময়মতো কাউন্টারে আসছে না, এ নিয়ে অভিযোগ জানান অনেকে। তবে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মহাখালি এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাটের কারণে রাস্তায় কিছু জায়গায় যানজট হচ্ছে, তবে আগের চেয়ে ব্যবস্থাপনা ভালো।’

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, গরমের অস্বস্তি, জাঁতাকলে পড়ার মতো ভিড়, বাড়তি ভাড়ার নিগ্রহ- সবকিছু ছাপিয়েও যাত্রীদের মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি। কারণ তারা জানেন, এই পথের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছে সেই শেকড়ের ঠিকানা। যেখানে মায়ের হাতের রান্না, বাবার মুখে ‘এলি রে বাবা’, ভাইবোনের দৌড় আর গ্রামের মেঠোপথের সেই নিশ্বাস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


ঢাকা ছেড়ে শেকড়মুখী জনস্রোত, খুশির ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানী ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। অনেকেই ছাড়ার অপেক্ষায়। ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঢাকার প্রতিটি প্রবেশ ও বহির্মুখ টার্মিনাল যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শুধু ভিড়, চাপ আর ব্যস্ততার রঙে নয়, ঘর ফেরার উত্তেজনায়।

গাবতলী, মহাখালি, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ- যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই দিনভর দেখা গেছে শুধু মানুষ। হাতে ব্যাগ, কাঁধে শিশু, মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাড়ি ফেরার তৃপ্তির হাসি। ঈদ মানেই ফিরে যাওয়া সেই শেকড়ের ঠিকানায়। যেখানে অপেক্ষা করে থাকেন মা-বাবা, ভাই-বোন আর শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি।

রাজধানীর উত্তরের মূল প্রবেশপথ গাবতলী বাস টার্মিনাল। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই এখানে যেন ভিন্ন রূপ। রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যের বাস কাউন্টারগুলোতে মানুষের ভিড়।

টাঙ্গাইলগামী যাত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরে বাস ধরতে এসেছি। সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাব। মায়ের কোলে ফিরে যাব।ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত। পানি, শুকনো খাবার, শিশুদের জন্য চিপস-চকলেট নিয়ে সাজানো ছোট ছোট দোকান। বিক্রি ভালো, মুখে হাসি।

মহাখালি বাস টার্মিনালেও যাত্রীরা ছুটছেন বিভিন্ন কাউন্টারের দিকে। বেশির ভাগ বাসের কাউন্টারের সামনেই লম্বা লাইন।যাত্রীরা বলছেন, বাস কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষার পর ছাড়ছে।

সিলেটগামী এক যাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ‘ছোট মেয়েকে নিয়ে অপেক্ষা করছি। কিন্তু মেয়েটি কাঁদছে না বরং বলছে—আম্মু, আমরা কি নানুবাড়ি যাচ্ছি? তাদের মুখ দেখেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

ঢাকার নৌ-প্রবেশপথ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের চিত্রও একই। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর- দক্ষিণের জেলাগুলোর যাত্রীরা এখান থেকেই যান নৌকায়, লঞ্চে, স্পিডবোটে।

ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। হাতে বস্তা, কাঁধে ব্যাগ, গলায় ছোট্ট শিশু- সবাই কোনোমতে জায়গা করে নিচ্ছেন লঞ্চে। ভোলাগামী যাত্রী জসিম মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবার ঈদেই সদরঘাট ভোগান্তি। তবুও বাড়ি যেতে হবে। নৌপথে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা, কিন্তু শেষে গ্রামের বাড়ি পৌঁছেই সব কষ্ট ভুলে যাই।’

ঘাট এলাকায় খোলা চায়ের দোকান, মুড়ির দোকান, ফলের দোকানেও বেচাকেনা চোখে পড়ার মতো।

ঢাকার প্রাণকেন্দ্র যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড় এলাকা বছরের অন্য সময় যেখানে যানজট ও কোলাহলের নামান্তর, সেখানে ঈদ আসলেই তা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। প্রায় পুরো দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের যাত্রীরা এখান থেকেই রওনা দেন।

দুপুরের পর থেকেই এলাকায় বাড়ে চাপ। সন্ধ্যার দিকে অবস্থা আরও ঘোরালো হয়। বাসের হর্ন, যাত্রীদের ডাকাডাকি, হেলপারদের চিৎকার- সব মিলে এক মাতোয়ারা পরিবেশ।

ধোলাইপাড় এলাকায় শিশুদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে। মা-বাবা কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মুখে মাস্ক, হাতে ছোট ব্যাগ নিয়ে বড়দের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে।ঢাকার পূর্বপ্রান্তের সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের চিত্রও প্রায় একই।

মাদারীপুরগামী রিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ে করে ঢাকায় এসেছি দুই বছর। এবার প্রথম বাচ্চা নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি। টিকিট কিনতে কষ্ট হয়েছে, কিন্তু বাসে উঠেই যেন স্বস্তি লাগছে।’

শুধু যাত্রী নয়, ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর ফুটপাতের বিক্রেতারা। গাবতলী, মহাখালি, যাত্রাবাড়ী- সর্বত্রই চোখে পড়ে অস্থায়ী দোকানের সমাহার। পানীয়, শুকনো খাবার, বিস্কুট, চিপস, শিশুখাদ্য, এমনকি নতুন জামা-জুতো পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতে।

এক ফল বিক্রেতা সালমান বলেন, ‘গাবতলীতে আছি দশ বছর। ঈদের আগের তিন দিন বেচাকেনা অন্যবারের চেয়ে দ্বিগুণ। মানুষ ভিড়ে কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু পানি আর ফলের চাহিদা থাকে বেশি।’

এক বাস হেলপার রাজিব বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাড়া নেই। একটা বাস ছাড়ি, পরের লাইনে। চার ঘণ্টা ঘুমও ঠিকমতো হয় না। তবে বোনাস পাব আর যাত্রীদের মুখে হাসি দেখলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।’

ঈদযাত্রার বাস্তব চিত্র শুধু আনন্দমুখর নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ভোগান্তি ও অভিযোগও। যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ জায়গাতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০-৫০ শতাংশ বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী এলাকায় এই অভিযোগ বেশি।

সবপথেই ঘরে ফেরার খুশি

যানজটের কারণে বাস সময়মতো কাউন্টারে আসছে না, এ নিয়ে অভিযোগ জানান অনেকে। তবে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মহাখালি এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাটের কারণে রাস্তায় কিছু জায়গায় যানজট হচ্ছে, তবে আগের চেয়ে ব্যবস্থাপনা ভালো।’

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, গরমের অস্বস্তি, জাঁতাকলে পড়ার মতো ভিড়, বাড়তি ভাড়ার নিগ্রহ- সবকিছু ছাপিয়েও যাত্রীদের মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তি। কারণ তারা জানেন, এই পথের শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছে সেই শেকড়ের ঠিকানা। যেখানে মায়ের হাতের রান্না, বাবার মুখে ‘এলি রে বাবা’, ভাইবোনের দৌড় আর গ্রামের মেঠোপথের সেই নিশ্বাস।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত