সংবাদ

বিমানবন্দরের ‘অকশন ম্যানেজার’ সেজে 'অর্থ আত্মসাৎ': 'মূলহোতা' সিআইডির জালে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

বিমানবন্দরের ‘অকশন ম্যানেজার’ সেজে 'অর্থ আত্মসাৎ': 'মূলহোতা' সিআইডির জালে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিলাম (অকশন) বিভাগের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে কম দামে আইফোন ও ল্যাপটপ দেওয়ার নামে প্রায় ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) চক্রের মূলহোতা মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারকে গ্রেফতার করে।
​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অপারেশন ম্যানেজার পরিচয় দেয়।
একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে বলে, "বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ হওয়া আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেওয়া হবে।"
শুধু তাই নয়, বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা দাবি করে, "আমাদের অধীনে থাকা প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে জীবনবীমার পলিসি নিতে আগ্রহী।"
​এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চক্রটি ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় নামার প্রস্তাব দেয়। বৈধতা প্রমাণের জন্য তারা সিভিল এভিয়েশন ও পুলিশের ভুয়া ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল সরকারি নথিপত্র দেখায়। এসব দেখে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৮৭  হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর পণ্য না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী গত ২২ জুন ডিএমপির পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সহায়তায় রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততা পায় এবং তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ও ৭টি সিম জব্দ করে।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতার রবিন ভাটারা থানার আরেকটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
​এই ঘটনার পর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, "সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো আর্থিক লেনদেন করবেন না। যেকোনো বিনিয়োগের আগে তথ্য যাচাই করুন এবং সন্দেহজনক কিছু ঘটলে দ্রুত থানা বা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে জানান। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


বিমানবন্দরের ‘অকশন ম্যানেজার’ সেজে 'অর্থ আত্মসাৎ': 'মূলহোতা' সিআইডির জালে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিলাম (অকশন) বিভাগের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে কম দামে আইফোন ও ল্যাপটপ দেওয়ার নামে প্রায় ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) চক্রের মূলহোতা মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারকে গ্রেফতার করে।
​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অপারেশন ম্যানেজার পরিচয় দেয়।
একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে বলে, "বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ হওয়া আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেওয়া হবে।"
শুধু তাই নয়, বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা দাবি করে, "আমাদের অধীনে থাকা প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে জীবনবীমার পলিসি নিতে আগ্রহী।"
​এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে চক্রটি ভুক্তভোগীকে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় নামার প্রস্তাব দেয়। বৈধতা প্রমাণের জন্য তারা সিভিল এভিয়েশন ও পুলিশের ভুয়া ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল সরকারি নথিপত্র দেখায়। এসব দেখে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৮৭  হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর পণ্য না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় চক্রটি।
​প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী গত ২২ জুন ডিএমপির পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সহায়তায় রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততা পায় এবং তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ও ৭টি সিম জব্দ করে।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতার রবিন ভাটারা থানার আরেকটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
​এই ঘটনার পর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, "সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো আর্থিক লেনদেন করবেন না। যেকোনো বিনিয়োগের আগে তথ্য যাচাই করুন এবং সন্দেহজনক কিছু ঘটলে দ্রুত থানা বা সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে জানান। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত