সংবাদ

সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায়


প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী)
প্রতিনিধি, ডোমার (নীলফামারী)
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায়
মূল্য তালিকা ছাড়াই চলছে বসুনিয়া হাটের গবাদিপশু কেনাবেচা। ছবিঃ সংবাদ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য গবাদিপশুর হাট ‘বসুনিয়া হাটে’ সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ৬ টি হাট ধরে এই অনিয়ম আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য বসুনিয়া হাট-বাজারের ইজারা পান জাহেরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে গরু প্রতি ২০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ১০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছিল। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত ছয়টি হাট ধরে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে গরু প্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) বসুনিয়া হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু প্রতি হাসিল ৫০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ক্রেতার কাছ থেকে ৭০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ হিসেবে আরও ২০০ টাকা সহ মোট ৯০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে ছাগলের নির্ধারিত হাসিল ১৮০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২৮০ টাকা। ইজারাদারের নির্দেশে রশিদ লেখকেরা এই বাড়তি টাকা আদায় করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন কয়েকজন লেখক। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাটের কোথাও হাসিল আদায়ের মূল্য তালিকা টাঙানো হয়নি।

জলঢাকা থেকে গরু বিক্রি করতে আসা মফিজুল ইসলাম বলেন, "আমি ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছি। আমার কাছ থেকে বিক্রেতার চাঁদা হিসেবে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, আর ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৭০০ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য বোবা কান্নার মতো।"

কালাম হোসেন নামের এক গরু ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, "এই হাটে সব সময়ই অতিরিক্ত টোল নেওয়া হয়। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাইকে ম্যানেজ করেই ইজারাদার এই অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।"

এদিকে হাটের এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করায় এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় গত কয়েকদিন আগে মমিনুর রহমান নামের স্থানীয় এক যুবকের ওপর হামলা চালায় ইজারাদারের লোকজন। হামলায় ওই যুবকের মুঠোফোনটি ভেঙে ফেলা হয়। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হাসিল আদায়

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য গবাদিপশুর হাট ‘বসুনিয়া হাটে’ সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ৬ টি হাট ধরে এই অনিয়ম আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য বসুনিয়া হাট-বাজারের ইজারা পান জাহেরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে গরু প্রতি ২০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ১০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছিল। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত ছয়টি হাট ধরে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে গরু প্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) বসুনিয়া হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু প্রতি হাসিল ৫০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ক্রেতার কাছ থেকে ৭০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ হিসেবে আরও ২০০ টাকা সহ মোট ৯০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে ছাগলের নির্ধারিত হাসিল ১৮০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২৮০ টাকা। ইজারাদারের নির্দেশে রশিদ লেখকেরা এই বাড়তি টাকা আদায় করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন কয়েকজন লেখক। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাটের কোথাও হাসিল আদায়ের মূল্য তালিকা টাঙানো হয়নি।

জলঢাকা থেকে গরু বিক্রি করতে আসা মফিজুল ইসলাম বলেন, "আমি ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছি। আমার কাছ থেকে বিক্রেতার চাঁদা হিসেবে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, আর ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৭০০ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়া আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য বোবা কান্নার মতো।"

কালাম হোসেন নামের এক গরু ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, "এই হাটে সব সময়ই অতিরিক্ত টোল নেওয়া হয়। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাইকে ম্যানেজ করেই ইজারাদার এই অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।"

এদিকে হাটের এই অনিয়ম ও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের প্রতিবাদ করায় এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় গত কয়েকদিন আগে মমিনুর রহমান নামের স্থানীয় এক যুবকের ওপর হামলা চালায় ইজারাদারের লোকজন। হামলায় ওই যুবকের মুঠোফোনটি ভেঙে ফেলা হয়। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত