গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত ৩ দিনের টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, মাঠ ও নিচু এলাকার বসতবাড়ি। সেই সঙ্গে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি ও অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত ও নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিভিন্ন মহল্লার সড়কে এখন হাঁটুসমান পানি।
শান্তিরাম ইউনিয়নের বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, অনেক দিন সংস্কার না করায় কাঁচা রাস্তাগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে ফোরকানিয়া থেকে ক্ষুদিরাম এবং ভাটিয়াপাড়ার মোড় থেকে ঝিনিয়া সড়কটি এখন পানির নিচে। এতে স্কুল-কলেজমুখী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ। চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী মোস্তফা মাসুম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি নামতে পারছে না। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফারাজিপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমে যায়। বেলকা মজিদপাড়া স্কুল মাঠে এখন কোমর সমান পানি। এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম মিয়া জানায়, বৃষ্টিতে ভিজে দুই সেট পোশাক সঙ্গে নিয়ে তাকে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এটি বন্যা নয়, মূলত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরি করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কালভার্টগুলোর মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয়দের সচেতনতা ও আন্তরিকতা অত্যন্ত জরুরি।’
/

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত ৩ দিনের টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, মাঠ ও নিচু এলাকার বসতবাড়ি। সেই সঙ্গে উজানের ঢলে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি ও অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত ও নিমজ্জিত হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বিভিন্ন মহল্লার সড়কে এখন হাঁটুসমান পানি।
শান্তিরাম ইউনিয়নের বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, অনেক দিন সংস্কার না করায় কাঁচা রাস্তাগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে ফোরকানিয়া থেকে ক্ষুদিরাম এবং ভাটিয়াপাড়ার মোড় থেকে ঝিনিয়া সড়কটি এখন পানির নিচে। এতে স্কুল-কলেজমুখী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ। চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী মোস্তফা মাসুম বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করায় পানি নামতে পারছে না। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফারাজিপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমে যায়। বেলকা মজিদপাড়া স্কুল মাঠে এখন কোমর সমান পানি। এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম মিয়া জানায়, বৃষ্টিতে ভিজে দুই সেট পোশাক সঙ্গে নিয়ে তাকে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এটি বন্যা নয়, মূলত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরি করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কালভার্টগুলোর মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয়দের সচেতনতা ও আন্তরিকতা অত্যন্ত জরুরি।’
/

আপনার মতামত লিখুন