সংবাদ

শাল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত


প্রতিনিধি,  সুনামগঞ্জ
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

শাল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
শাল্লা থানা, সুনামগঞ্জ। ছবিঃ সংবাদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পায়েল মিয়া (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় নারীসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিহত পায়েল মিয়া ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইছাকপুর গ্রামের সাইদুর রহমান পক্ষ এবং শফি মিয়া পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত বছরও একই বিষয় নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন পায়েল মিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন একই গ্রামের তাহেরা বেগম (৩২) ও আলকাস মিয়া (৫০) সহ আরও কয়েকজন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাদের পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনার পর দুই পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। হামলার শিকার পক্ষের নেতা সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শফি মিয়ার লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা নির্মমভাবে পায়েলকে হত্যা করেছে এবং আমাদের লোকজনকে জখম করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শফি মিয়ার পক্ষের আওয়াল নূর দাবি করেন, সেখানে মারামারির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা ও আইনি জালে ফাঁসানোর জন্য প্রতিপক্ষ নিজেরা এই ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


শাল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পায়েল মিয়া (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় নারীসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

নিহত পায়েল মিয়া ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ইছাকপুর গ্রামের সাইদুর রহমান পক্ষ এবং শফি মিয়া পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত বছরও একই বিষয় নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরোনো শত্রুতার জের ধরেই মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন পায়েল মিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন একই গ্রামের তাহেরা বেগম (৩২) ও আলকাস মিয়া (৫০) সহ আরও কয়েকজন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাদের পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনার পর দুই পক্ষ থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। হামলার শিকার পক্ষের নেতা সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শফি মিয়ার লোকজন পরিকল্পিতভাবে দেশি অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা নির্মমভাবে পায়েলকে হত্যা করেছে এবং আমাদের লোকজনকে জখম করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে শফি মিয়ার পক্ষের আওয়াল নূর দাবি করেন, সেখানে মারামারির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা ও আইনি জালে ফাঁসানোর জন্য প্রতিপক্ষ নিজেরা এই ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত