সংবাদ

৫০ বছরে রূপশ্রী অপেরা, রাণীনগরে উৎসব


প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

৫০ বছরে রূপশ্রী অপেরা, রাণীনগরে উৎসব
নওগাঁর রাণীনগরের ভাটকৈ গ্রামে রূপশ্রী অপেরার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ হচ্ছে যাত্রাপালা। ছবি : সংবাদ

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আকাশ সংস্কৃতির দাপটে যখন লোকসংস্কৃতি বিলুপ্তপ্রায়, তখন সুস্থ বিনোদনের বার্তা নিয়ে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী যাত্রাপালার আসর। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটকৈ গ্রামে গত ৩ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই আসর চলে। স্থানীয় যাত্রাদল ‘রূপশ্রী অপেরা’র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খগেন্দ্র নারায়ণ লস্করের পৈতৃক নিবাস ভাটকৈ গ্রামের লস্কর বাড়ির উঠানে এই আসর বসে। এতে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘এই পৃথিবী টাকার গোলাম’। কুরুচিপূর্ণ উপাদান ও চটুল নাচ বর্জন করে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে এই অঞ্চলের লোকনাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে রূপশ্রী অপেরা প্রতিষ্ঠিত হয়। খগেন্দ্র নারায়ণ লস্করের সঙ্গে দলটির অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন প্রয়াত অখিল সেন। সত্তরের দশকে এই যাত্রাদলের উপার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ একুশে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গবেষক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল, প্রবীণ নাট্যকর্মী সন্তোষ কুমার দাসসহ স্থানীয় গুণীজনেরা। গবেষক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল বলেন, ‘অপসংস্কৃতির হাত থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে রুচিশীল বিনোদনের বিকল্প হিসেবে যাত্রাশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো জরুরি।’ এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তিনি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের দাবি জানান। উল্লেখ্য, এই যাত্রাদল নিয়ে তিনি ‘রূপশ্রী অপেরা’ নামে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থও রচনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আয়োজন কেবল বিনোদনই জোগায়নি, বরং গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভাটকৈ গ্রামের লস্কর বাড়ির উঠানে নতুন করে যাত্রাপালার সুর ভেসে আসায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


৫০ বছরে রূপশ্রী অপেরা, রাণীনগরে উৎসব

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আকাশ সংস্কৃতির দাপটে যখন লোকসংস্কৃতি বিলুপ্তপ্রায়, তখন সুস্থ বিনোদনের বার্তা নিয়ে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী যাত্রাপালার আসর। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটকৈ গ্রামে গত ৩ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত এই আসর চলে। স্থানীয় যাত্রাদল ‘রূপশ্রী অপেরা’র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত খগেন্দ্র নারায়ণ লস্করের পৈতৃক নিবাস ভাটকৈ গ্রামের লস্কর বাড়ির উঠানে এই আসর বসে। এতে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘এই পৃথিবী টাকার গোলাম’। কুরুচিপূর্ণ উপাদান ও চটুল নাচ বর্জন করে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে এই অঞ্চলের লোকনাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে রূপশ্রী অপেরা প্রতিষ্ঠিত হয়। খগেন্দ্র নারায়ণ লস্করের সঙ্গে দলটির অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন প্রয়াত অখিল সেন। সত্তরের দশকে এই যাত্রাদলের উপার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ একুশে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গবেষক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল, প্রবীণ নাট্যকর্মী সন্তোষ কুমার দাসসহ স্থানীয় গুণীজনেরা। গবেষক মোস্তফা আল-মেহমুদ রাসেল বলেন, ‘অপসংস্কৃতির হাত থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে রুচিশীল বিনোদনের বিকল্প হিসেবে যাত্রাশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো জরুরি।’ এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তিনি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের দাবি জানান। উল্লেখ্য, এই যাত্রাদল নিয়ে তিনি ‘রূপশ্রী অপেরা’ নামে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থও রচনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই আয়োজন কেবল বিনোদনই জোগায়নি, বরং গ্রামীণ সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভাটকৈ গ্রামের লস্কর বাড়ির উঠানে নতুন করে যাত্রাপালার সুর ভেসে আসায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত