রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রবিবার। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন দ্রুত গতিতে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আজ এই মামলার রায় দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপরই রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন আদালত। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আজ আদালতে হাজির করা হবে। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়ার নজির মেলা ভার।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তাকে সহায়তার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সাত বছরের সাজা চেয়েছেন।
রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, বিচারিক আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি ধাপ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে পারেন, যা সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ার।
এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন: "আজ আমি একজন ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত, এর দায় কার? এই দায়ভার কি আমি নেব? না সমাজ নেবে? না রাষ্ট্র নেবে? একটি ফ্ল্যাটের দরজা থেকে আরেক ফ্ল্যাটের দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট, কিন্তু এই ৩ ফুটের ভেতরেও আমরা একটা শিশুকে নিরাপত্তা দিতে পারছি না।"
আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা, এক খণ্ডবিখণ্ড লাশের বাবা হয়ে থাকতে চাইনি। আমি আব্দুল হান্নান হয়ে, একজন গর্বিত পিতা হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আপনারা আমাকে আমার নাম ফিরিয়ে দিন, আমার রামিসাকে ফিরিয়ে দিন। যদি না পারেন, তবে অন্তত এমন একটা সমাজব্যবস্থা দিন, যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।"

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রবিবার। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নজিরবিহীন দ্রুত গতিতে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আজ এই মামলার রায় দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপরই রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন আদালত। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আজ আদালতে হাজির করা হবে। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষ হওয়ার নজির মেলা ভার।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তাকে সহায়তার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সাত বছরের সাজা চেয়েছেন।
রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু জানান, বিচারিক আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি ধাপ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দ্রুত রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে পারেন, যা সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ার।
এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীতে বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন: "আজ আমি একজন ধর্ষিতার বাবা হিসেবে পরিচিত, এর দায় কার? এই দায়ভার কি আমি নেব? না সমাজ নেবে? না রাষ্ট্র নেবে? একটি ফ্ল্যাটের দরজা থেকে আরেক ফ্ল্যাটের দরজার দূরত্ব মাত্র তিন ফুট, কিন্তু এই ৩ ফুটের ভেতরেও আমরা একটা শিশুকে নিরাপত্তা দিতে পারছি না।"
আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমি তো একজন ধর্ষিতার বাবা, এক খণ্ডবিখণ্ড লাশের বাবা হয়ে থাকতে চাইনি। আমি আব্দুল হান্নান হয়ে, একজন গর্বিত পিতা হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। আপনারা আমাকে আমার নাম ফিরিয়ে দিন, আমার রামিসাকে ফিরিয়ে দিন। যদি না পারেন, তবে অন্তত এমন একটা সমাজব্যবস্থা দিন, যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।"

আপনার মতামত লিখুন