শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। গত বছরের বর্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধের প্রায় ১,৮০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে নকশা করতে হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৬৪ কোটি টাকা। তবে বর্ষা ঘনিয়ে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ শুরু না হওয়ায় নতুন করে ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চার গ্রামের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার জিরোপয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮.৬৭ কিলোমিটার এলাকায় নদী তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৮৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। তবে গত বর্ষায় তীব্র স্রোতে জিরোপয়েন্ট থেকে কাথারিয়াকান্দি পর্যন্ত বিশাল এলাকা নদীতে বিলীন হয়। এতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার জিওব্যাগ ভেসে যায় এবং আগের নকশা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে জাজিরার পৈলান মোল্যাকান্দি এলাকায় দেখা যায়, গত বছরের ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। নদীতীরে পাথর ও কংক্রিট ব্লক স্তূপ করে রাখা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। বর্ষা শুরু হতে আর অল্প সময় বাকি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পূর্ব নাওডোবা এলাকার বাসিন্দা আনু শেখ বলেন, ‘গত বছর ৫ বিঘা জমি আর বসতভিটা নদী নিয়ে গেছে। ঘরটুকু সরিয়ে কোনোমতে টিকে আছি। এখন আবার বর্ষা আসছে, কিন্তু বাঁধের কাজ তো শুরু হচ্ছে না। প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি কখন জানি সব শেষ হয়ে যায়।’
একই আশঙ্কার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দা খালেক তালুকদার। তিনি বলেন, ‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পূর্বপুরুষের কবরটুকুও ভাঙনের মুখে। কাজ তাড়াতাড়ি না হলে এবার হয়তো চিহ্নটুকুও থাকবে না।’
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘ভাঙনের ফলে নকশা পরিবর্তন ও অনুমোদনের জন্য কিছুটা সময় লেগেছে। এতে ব্যয়ও বেড়েছে। তবে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি বর্ষার তীব্রতা বাড়ার আগেই জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।’
/

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। গত বছরের বর্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধের প্রায় ১,৮০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে নকশা করতে হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৬৪ কোটি টাকা। তবে বর্ষা ঘনিয়ে এলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ শুরু না হওয়ায় নতুন করে ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চার গ্রামের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জাজিরার জিরোপয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮.৬৭ কিলোমিটার এলাকায় নদী তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৮৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। তবে গত বর্ষায় তীব্র স্রোতে জিরোপয়েন্ট থেকে কাথারিয়াকান্দি পর্যন্ত বিশাল এলাকা নদীতে বিলীন হয়। এতে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার জিওব্যাগ ভেসে যায় এবং আগের নকশা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে জাজিরার পৈলান মোল্যাকান্দি এলাকায় দেখা যায়, গত বছরের ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। নদীতীরে পাথর ও কংক্রিট ব্লক স্তূপ করে রাখা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। বর্ষা শুরু হতে আর অল্প সময় বাকি থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
পূর্ব নাওডোবা এলাকার বাসিন্দা আনু শেখ বলেন, ‘গত বছর ৫ বিঘা জমি আর বসতভিটা নদী নিয়ে গেছে। ঘরটুকু সরিয়ে কোনোমতে টিকে আছি। এখন আবার বর্ষা আসছে, কিন্তু বাঁধের কাজ তো শুরু হচ্ছে না। প্রতিদিন আতঙ্কে থাকি কখন জানি সব শেষ হয়ে যায়।’
একই আশঙ্কার কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দা খালেক তালুকদার। তিনি বলেন, ‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। এখন পূর্বপুরুষের কবরটুকুও ভাঙনের মুখে। কাজ তাড়াতাড়ি না হলে এবার হয়তো চিহ্নটুকুও থাকবে না।’
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, ‘ভাঙনের ফলে নকশা পরিবর্তন ও অনুমোদনের জন্য কিছুটা সময় লেগেছে। এতে ব্যয়ও বেড়েছে। তবে ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি বর্ষার তীব্রতা বাড়ার আগেই জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।’
/

আপনার মতামত লিখুন