সংবাদ

রায় প্রত্যাখ্যান করে ইনুর স্ত্রী বললেন, ‘নিকৃষ্টতম অবিচার’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

রায় প্রত্যাখ্যান করে ইনুর স্ত্রী বললেন, ‘নিকৃষ্টতম অবিচার’
ইনুর সহধর্মিণী ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আফরোজা হক রীনা।

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়কে ‘নিকৃষ্টতম অবিচার’ ও ‘ফরমায়েশি’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তার সহধর্মিণী ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি  আফরোজা হক রীনা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসানুল হক ইনুর জীবনসঙ্গী আফরোজা হক সাংবাদিকদের কাছে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে জুলাই আন্দোলনে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয়; বাকি পাঁচটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।

রায়ে ৩ নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জানান, ইনুর সবগুলো সাজা একসঙ্গে (যুগপৎভাবে) চলবে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

দুপুর পৌনে ২টায় বিচারকাজ শুরু হয়। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ইনুর বিরুদ্ধে চার্জসহ রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান।  এ সময় ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা সরাসরি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালকে  ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টে দিয়েছে।

​আফরোজা হক বলেন, ‘৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, ইউনুস সরকার সেই ট্রাইব্যুনালকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টে দিয়ে, সেই ট্রাইব্যুনালে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করছে এবং রায় প্রদান করছে। এটাকে আমরা মনে করি আইনের নিকৃষ্টতম অপব্যবহার এবং নিকৃষ্টতম অবিচার। আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করি।’

​উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দল, পরিবার এবং বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে আমরা ঠিক করবো আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ।’

রায়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে জাসদ নেত্রী আফরোজা হক বলেন, ‘এটা একটি ফরমায়েশি রায়। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে মতবাদ, সেই মতবাদের প্রতিফলন এই রায়ের মধ্য দিয়ে ঘটেছে।’

​তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে যারা থাকি, আমরা মনে করি এই মতবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ ৭১ সাল থেকে আমরা করছি, আজকেও করবো। আজকে এই রায়ের অপব্যবহারে আমরা সবাই ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


রায় প্রত্যাখ্যান করে ইনুর স্ত্রী বললেন, ‘নিকৃষ্টতম অবিচার’

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়কে ‘নিকৃষ্টতম অবিচার’ ও ‘ফরমায়েশি’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তার সহধর্মিণী ও জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি  আফরোজা হক রীনা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসানুল হক ইনুর জীবনসঙ্গী আফরোজা হক সাংবাদিকদের কাছে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে জুলাই আন্দোলনে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা দেওয়া হয়; বাকি পাঁচটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।

রায়ে ৩ নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জানান, ইনুর সবগুলো সাজা একসঙ্গে (যুগপৎভাবে) চলবে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

দুপুর পৌনে ২টায় বিচারকাজ শুরু হয়। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন হাসানুল হক ইনু। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ইনুর বিরুদ্ধে চার্জসহ রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান।  এ সময় ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা সরাসরি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালকে  ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টে দিয়েছে।

​আফরোজা হক বলেন, ‘৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, ইউনুস সরকার সেই ট্রাইব্যুনালকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টে দিয়ে, সেই ট্রাইব্যুনালে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করছে এবং রায় প্রদান করছে। এটাকে আমরা মনে করি আইনের নিকৃষ্টতম অপব্যবহার এবং নিকৃষ্টতম অবিচার। আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করি।’

​উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দল, পরিবার এবং বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে আমরা ঠিক করবো আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ।’

রায়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে জাসদ নেত্রী আফরোজা হক বলেন, ‘এটা একটি ফরমায়েশি রায়। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে মতবাদ, সেই মতবাদের প্রতিফলন এই রায়ের মধ্য দিয়ে ঘটেছে।’

​তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে যারা থাকি, আমরা মনে করি এই মতবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ ৭১ সাল থেকে আমরা করছি, আজকেও করবো। আজকে এই রায়ের অপব্যবহারে আমরা সবাই ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত