জুলাই আন্দোলন দমনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে থাকা, বলপ্রয়োগে উসকানি এবং কুষ্টিয়ায় ফোনালাপের পর ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার
(৩০ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা
শুরু করেন।
আদালতের অনুমতি
সাপেক্ষে এই রায় ঘোষণাটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি (BTV) এবং চিফ
প্রসিকিউটরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২২
জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত আছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে
আছেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর
ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যার সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার
নথিপত্র রয়েছে।
আসামির অপরাধের
পক্ষে ৩টি অডিও এবং ৬টি ভিডিও ডকুমেন্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই মানবতাবিরোধী
অপরাধের মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।
ট্রাইব্যুনালে
জাসদ সভাপতি ইনুর বিরুদ্ধে যে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে রায় দেওয়া
হচ্ছে, তার মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:
২০২৪ সালের
১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে এবং ২৭ জুলাই দেশীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার
দেন ইনু। সেখানে তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আন্দোলনকারীদের
'বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক' আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ
বলপ্রয়োগের উসকানি দেন।
১৯ জুলাই গণভবনে
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে 'দেখামাত্র
গুলি' করার মারাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনু সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা ও নীতিগত সহায়তা
দেন। পরবর্তীতে ২৯ জুলাইয়ের সভায়ও তিনি এই হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নকে কৌশলে সমর্থন ও
বৈধতা দেন।
২০ জুলাই দুপুরে
ইনু নিজ জেলা কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে
তালিকা তৈরি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর ৫ আগস্ট পর্যন্ত
কুষ্টিয়ায় পুলিশ ও ১৪ দলের ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।
শ্রমিক আসরাফুল
ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু
ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
অভিযোগে বলা
হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে ইনু সার্বক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও বোমা
চালানো, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’
আখ্যা দিয়ে ঘেরাও করে রাখার সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত
ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী,
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া
শহরের হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। সকাল ১০টার দিকে তারা হাসপাতাল মোড় হয়ে মজমপুরের
দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে শেখ হাসিনা, মাহবুবউল আলম হানিফ এবং
হাসানুল হক ইনুর পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের সশস্ত্র
ক্যাডাররা (অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক প্রমুখ) পুলিশের সহায়তায় নিরীহ
মানুষের ওপর গুলি চালায়।
এরই ফলশ্রুতিতে
দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শহরের বক চত্বর, বার্মিজ গলি, আড়ং-এর সামনে, তুলাপট্টি
এবং ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশের সড়কে ওই ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়াও রাইসুল
হকসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী গুরুতর আহত ও নির্যাতনের শিকার হন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
জুলাই আন্দোলন দমনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে থাকা, বলপ্রয়োগে উসকানি এবং কুষ্টিয়ায় ফোনালাপের পর ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার
(৩০ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা
শুরু করেন।
আদালতের অনুমতি
সাপেক্ষে এই রায় ঘোষণাটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি (BTV) এবং চিফ
প্রসিকিউটরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২২
জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত আছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে
আছেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর
ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার মূল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যার সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার
নথিপত্র রয়েছে।
আসামির অপরাধের
পক্ষে ৩টি অডিও এবং ৬টি ভিডিও ডকুমেন্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এই মানবতাবিরোধী
অপরাধের মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।
ট্রাইব্যুনালে
জাসদ সভাপতি ইনুর বিরুদ্ধে যে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে রায় দেওয়া
হচ্ছে, তার মূল অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:
২০২৪ সালের
১৮ জুলাই একটি বিদেশি গণমাধ্যমে এবং ২৭ জুলাই দেশীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার
দেন ইনু। সেখানে তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আন্দোলনকারীদের
'বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক' আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ
বলপ্রয়োগের উসকানি দেন।
১৯ জুলাই গণভবনে
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় দেশব্যাপী সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে 'দেখামাত্র
গুলি' করার মারাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনু সরাসরি উসকানি, প্ররোচনা ও নীতিগত সহায়তা
দেন। পরবর্তীতে ২৯ জুলাইয়ের সভায়ও তিনি এই হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নকে কৌশলে সমর্থন ও
বৈধতা দেন।
২০ জুলাই দুপুরে
ইনু নিজ জেলা কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে
তালিকা তৈরি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর ৫ আগস্ট পর্যন্ত
কুষ্টিয়ায় পুলিশ ও ১৪ দলের ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।
শ্রমিক আসরাফুল
ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু
ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
অভিযোগে বলা
হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে ইনু সার্বক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও বোমা
চালানো, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’
আখ্যা দিয়ে ঘেরাও করে রাখার সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত
ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী,
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া
শহরের হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। সকাল ১০টার দিকে তারা হাসপাতাল মোড় হয়ে মজমপুরের
দিকে শান্তিপূর্ণভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে শেখ হাসিনা, মাহবুবউল আলম হানিফ এবং
হাসানুল হক ইনুর পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদের সশস্ত্র
ক্যাডাররা (অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক প্রমুখ) পুলিশের সহায়তায় নিরীহ
মানুষের ওপর গুলি চালায়।
এরই ফলশ্রুতিতে
দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে শহরের বক চত্বর, বার্মিজ গলি, আড়ং-এর সামনে, তুলাপট্টি
এবং ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশের সড়কে ওই ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়াও রাইসুল
হকসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী গুরুতর আহত ও নির্যাতনের শিকার হন।

আপনার মতামত লিখুন