ভারতে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় আরও পতনের আশঙ্কায় অনেকেই পুরোনো সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। বছরের শুরুর রেকর্ড উচ্চতা থেকে দাম কমে আসার পর অনেক পরিবারের মধ্যে এখন লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ভারতের বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রায় ৫০ টন পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৪৩ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রুপিতে নেমে এসেছে। বাজারে এ দাম আরও কমে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে নামতে পারে এমন প্রত্যাশাও রয়েছে। ফলে অনেকেই পুরোনো গয়না বদলে নতুন গয়না কেনার পরিবর্তে সেগুলো বিক্রি করে নগদ অর্থ নিচ্ছেন।
এই প্রবণতায় ভারতের সংগঠিত সোনা পুনর্ব্যবহার শিল্পেও গতি এসেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন অনেক ভোক্তা স্বর্ণকে অলঙ্কারের পাশাপাশি একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবে দেখছেন, যা অনুকূল দামে নগদ অর্থে রূপান্তর করা যায়।
এর ফলে পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ও জুয়েলার্সদের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্বর্ণের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে। পুরোনো স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসাও বেড়েছে। মুথুট এক্সিম জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ১০০টির বেশি 'গোল্ড পয়েন্ট'-এর মাধ্যমে সোনা সংগ্রহ ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি করেছে। ২০২৫ সালে পুনর্ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১২৫ থেকে ১৫০ টন। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টনে পৌঁছাতে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পুনর্মূল্যায়ন, চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হওয়ার পরও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ভারতে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় আরও পতনের আশঙ্কায় অনেকেই পুরোনো সোনা বিক্রি করে দিচ্ছেন। বছরের শুরুর রেকর্ড উচ্চতা থেকে দাম কমে আসার পর অনেক পরিবারের মধ্যে এখন লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ভারতের বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রায় ৫০ টন পুরোনো স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৪৩ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রুপিতে নেমে এসেছে। বাজারে এ দাম আরও কমে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে নামতে পারে এমন প্রত্যাশাও রয়েছে। ফলে অনেকেই পুরোনো গয়না বদলে নতুন গয়না কেনার পরিবর্তে সেগুলো বিক্রি করে নগদ অর্থ নিচ্ছেন।
এই প্রবণতায় ভারতের সংগঠিত সোনা পুনর্ব্যবহার শিল্পেও গতি এসেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন অনেক ভোক্তা স্বর্ণকে অলঙ্কারের পাশাপাশি একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবে দেখছেন, যা অনুকূল দামে নগদ অর্থে রূপান্তর করা যায়।
এর ফলে পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ও জুয়েলার্সদের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্বর্ণের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে। পুরোনো স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসাও বেড়েছে। মুথুট এক্সিম জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ১০০টির বেশি 'গোল্ড পয়েন্ট'-এর মাধ্যমে সোনা সংগ্রহ ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি করেছে। ২০২৫ সালে পুনর্ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১২৫ থেকে ১৫০ টন। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টনে পৌঁছাতে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পুনর্মূল্যায়ন, চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হওয়ার পরও বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন