পিরোজপুরের নেছারাবাদে ফেসবুক লাইভ চলাকালে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহ ও স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই যুবক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিহত সজল কুমার দেউরী (৩২) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিজের ভাড়া বাসায় সজল কুমার দেউরীর মৃত্যু হয়। তাদের দাবি, মৃত্যুর সময় সজল ফেসবুক লাইভে ছিলেন। ১০ বছর আগে বিয়ে করা সজলের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইয়ের সংসারে অশান্তি চলছিল। প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সঙ্গে ভাবির সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে একাধিকবার সালিস ও মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার আগের দিনও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল।
বলদিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, ‘সজলের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী শোভন বেপারীর সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। এ নিয়ে সজলের সঙ্গে স্ত্রীর প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও অভিযুক্ত শোভন এলাকা ছেড়েছেন বলে শুনেছি।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শোভন বেপারী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাকে আমি বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করি।’ পরে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অপরদিকে বাড়িতে না পাওয়ায় নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন