নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের স্মারক তালগাছ। অথচ মাত্র ৫০ বছর আগেও এ উপজেলার গ্রামগুলোতে সারি সারি হাজারো তালগাছ পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ত। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, একসময় জমির সীমানা নির্ধারণ ও সুরক্ষায় মানুষ সারিবদ্ধভাবে তালের বীজ বপন করত। সেই বীজ থেকেই জন্ম নিত বিশাল সব তালগাছ।
গাছগুলোর নানামুখী ব্যবহারের কথা জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, তালগাছের কাঠ একসময় বসতবাড়ির চাল ও খুঁটি তৈরিতে অপরিহার্য ছিল। তালের গুড় আর ক্ষীরের স্বাদ এখনো প্রবীণদের মুখে লেগে আছে। লোকজ সংস্কৃতিতে ভাদ্র মাসে তাল খাওয়ার যে প্রচলন, তা আজও টিকে থাকলেও দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে এই ফল।
পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছ কেবল ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি প্রকৃতির এক অনন্য সুরক্ষাকবচ। বিশেষ করে বজ্রপাত প্রতিরোধে এর ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়লেও তালগাছের সংখ্যা কমছে আশঙ্কাজনক হারে। এ ছাড়া তালগাছ ছিল শৈল্পিক বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখির প্রধান আশ্রয়স্থল। দিনের বেলা উঁচু তালের পাতায় ঝুলে থাকা শত শত বাদুড়ও ছিল এক চিরচেনা দৃশ্য। কিন্তু আবাসন সংকট ও বনায়নের অভাবে এই পাখপাখালিও এখন এলাকাছাড়া।
উপজেলায় ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে কলকারখানা গড়তে গিয়ে নির্বিচারে কাটা পড়েছে শত শত তালগাছ। পাশাপাশি ঘরবাড়ি নির্মাণে কড়িকাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্যও কেটে ফেলা হয়েছে অসংখ্য প্রাচীন বৃক্ষ। একসময় নিচু এলাকায় যাতায়াতের জন্য তালগাছ দিয়ে তৈরি বিশেষ নৌকা (কোন্দা) ব্যবহৃত হতো, যা এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে পলাশের ডাঙ্গা ও তালতলার পথে এখনো রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ কিছু তালগাছ টিকে আছে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পূর্ণবয়স্ক তালগাছ প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়, যা সরাসরি মাটির গভীরে বজ্রবিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে জানমাল রক্ষা করে। এ ছাড়া তালগাছ ভূমিক্ষয় রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে রাস্তার ধার ও জমির আইলে বেশি করে তালের বীজ রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা।
/

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের স্মারক তালগাছ। অথচ মাত্র ৫০ বছর আগেও এ উপজেলার গ্রামগুলোতে সারি সারি হাজারো তালগাছ পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ত। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, একসময় জমির সীমানা নির্ধারণ ও সুরক্ষায় মানুষ সারিবদ্ধভাবে তালের বীজ বপন করত। সেই বীজ থেকেই জন্ম নিত বিশাল সব তালগাছ।
গাছগুলোর নানামুখী ব্যবহারের কথা জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, তালগাছের কাঠ একসময় বসতবাড়ির চাল ও খুঁটি তৈরিতে অপরিহার্য ছিল। তালের গুড় আর ক্ষীরের স্বাদ এখনো প্রবীণদের মুখে লেগে আছে। লোকজ সংস্কৃতিতে ভাদ্র মাসে তাল খাওয়ার যে প্রচলন, তা আজও টিকে থাকলেও দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে এই ফল।
পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছ কেবল ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি প্রকৃতির এক অনন্য সুরক্ষাকবচ। বিশেষ করে বজ্রপাত প্রতিরোধে এর ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়লেও তালগাছের সংখ্যা কমছে আশঙ্কাজনক হারে। এ ছাড়া তালগাছ ছিল শৈল্পিক বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখির প্রধান আশ্রয়স্থল। দিনের বেলা উঁচু তালের পাতায় ঝুলে থাকা শত শত বাদুড়ও ছিল এক চিরচেনা দৃশ্য। কিন্তু আবাসন সংকট ও বনায়নের অভাবে এই পাখপাখালিও এখন এলাকাছাড়া।
উপজেলায় ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে কলকারখানা গড়তে গিয়ে নির্বিচারে কাটা পড়েছে শত শত তালগাছ। পাশাপাশি ঘরবাড়ি নির্মাণে কড়িকাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্যও কেটে ফেলা হয়েছে অসংখ্য প্রাচীন বৃক্ষ। একসময় নিচু এলাকায় যাতায়াতের জন্য তালগাছ দিয়ে তৈরি বিশেষ নৌকা (কোন্দা) ব্যবহৃত হতো, যা এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে পলাশের ডাঙ্গা ও তালতলার পথে এখনো রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ কিছু তালগাছ টিকে আছে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পূর্ণবয়স্ক তালগাছ প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়, যা সরাসরি মাটির গভীরে বজ্রবিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে জানমাল রক্ষা করে। এ ছাড়া তালগাছ ভূমিক্ষয় রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত থেকে বাঁচতে রাস্তার ধার ও জমির আইলে বেশি করে তালের বীজ রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা।
/

আপনার মতামত লিখুন