সংবাদ

মতামত

অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াই

আমার বাড়ি উত্তরের জেলা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে। আমাদের গ্রামে আমরাই একমাত্র রবিদাস পরিবার। রবিদাস একটি ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠী, যাদের পেশার সঙ্গে জুতা তৈরি, মেরামত ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের পরিবারের প্রতি উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতিবাচক মনোভাব দীর্ঘদিনের। পরিবারের প্রায় সব সদস্যকেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে অস্পৃশ্যতামূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। আমরা নয় ভাই-বোনের মধ্যে আমি অষ্টম। বড় দাদা-দিদিদের জীবনেও এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো আমাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এসব ঘটনার কিছু তাদের মুখে শুনেছি, আবার কিছু নিজের চোখেই দেখেছি।২০১৩ সালের দুর্গাপূজার কথা। তখন আমি ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমাদের পাড়ার সার্বজনীন মন্দিরে দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে পূজার্চনায় অংশ নিতে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করি। সে সময় অনেক মানুষের ভিড় থাকায় কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও প্রসাদ নেওয়ার জন্য মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেন তৎকালীন দায়িত্বরত পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ২০০৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তার কাছে তিন-চার মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম। সেই সুবাদে তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতাম। দিনে যতবারই তার সঙ্গে দেখা হতো, ততবারই তাকে নমস্কার জানাতাম। তাকে যথেষ্ট সম্মান করতাম।যাহোক, তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি পা ধুয়ে মন্দিরে ঢুকছো?’ প্রত্যুত্তরে বললাম, ‘কীভাবে শুচিতা বজায় রেখে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়, সেটা অন্তত জানি। আপনি এমন কথা বললেন কেন, স্যার?’তার কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে আমি ভীষণ ব্যথিত হয়েছিলাম। পরক্ষণেই তিনি আমতা আমতা করে বললেন, ‘তুমি জানো না তোমরা কী জাত? মুচি জাতের মানুষ পূজার সময় মন্দিরে ঢুকলে পূজার উপকরণ অপবিত্র হয়ে যাবে। দেবী দুর্গার পূজার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে। পূজার সময় মন্দিরের উপকরণে নিম্নজাতের মানুষের স্পর্শ করা অনুচিত।’কথাগুলো শোনার পর মনোকষ্ট ও অপমানবোধ থেকে প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, ‘সার্বজনীন পূজামণ্ডপে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র-সনাতন ধর্মাবলম্বী সবার সমান অধিকার রয়েছে। আমরা সবাই হিন্দু। তাই পূজার্চনার অধিকারও সবার সমান। তা ছাড়া পূজার চাঁদা আমরাও দিই। সে ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে এমন বৈষম্য আমি মানি না, মানব না। আপনার সামনেই মন্দিরে ঢুকে প্রসাদ নিয়ে আসছি। পারলে বাধা দিন।’ঘটনাটি সেখানেই শেষ হলেও এর ক্ষত আমার মনে গভীরভাবে থেকে যায়। বাড়ি ফিরে আমি আর কান্না থামাতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ আগেই রাগে-দুঃখে প্রতিবাদ করে এসেছি, অথচ বাড়িতে এসে নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। পরিবারের কাউকে প্রথমে কিছু বুঝতে দিইনি। কিন্তু মা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। তিনি জানতে চাইলে তাকে সব খুলে বলি।আমার অবিরাম কান্না দেখে মা-ও নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি মন্দিরে গিয়ে প্রতিবাদ করতে চাইলে আমি তাকে থামাই। মা একেবারেই নিরক্ষর। কিন্তু সেদিন তিনি হঠাৎ এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা আমার জীবনের জন্য গভীর শিক্ষণীয় হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা চর্মকার। যে ঢাক না বাজলে দেবী দুর্গার পূজা সম্পন্ন হয় না, সেই ঢাক তৈরির সঙ্গে আমাদের পেশার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যদি অস্পৃশ্য হই, তাহলে চামড়ার তৈরি ঢাকও অস্পৃশ্য। পূজামণ্ডপ থেকে সেই ঢাক আমি ছিনিয়ে আনব। দেখি, ঢাক ছাড়া দেবী মায়ের পূজা কীভাবে হয়!’ মায়ের সেই কথার মধ্যে ছিল শত বছরের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদার দাবি এবং জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের প্রতি এক গভীর প্রশ্ন।২০১৩ সালের ঘটনার পরও আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান হয়নি। ২০২০ সালের দুর্গাপূজার সময় আমি দুর্গামন্দিরের একটি প্রদীপদানি স্পর্শ করায় আশুতোষ সাহা সেটি পুকুরে ফেলে দেন। একই সঙ্গে পূজায় নিযুক্ত পুরোহিতকে সতর্ক করে দেন, যাতে আমি কিংবা আমার পরিবারের কোনো সদস্য মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারি।আমার প্রদীপদানি স্পর্শ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলাদা একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় আমি সাংগঠনিক কাজে বগুড়ার বাইরে অবস্থান করছিলাম। সভা চলাকালে আমাদের সংগঠনের একজন কর্মী ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানান।একটি পূজামণ্ডপে ব্যবহৃত প্রদীপদানি স্পর্শ করার কারণে সেটি ফেলে দেওয়া এবং একটি পরিবারের সদস্যদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশের মতো মৌলিক অধিকারের প্রশ্নটি যে কতটা অবহেলিত হতে পারে, তা আবারও উপলব্ধি করি।২০২১ সালে আমাদের সংগঠনের একজন কর্মীকেও অপমান করেন আমার সেই প্রাইভেট টিউটর। আমাদের পাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন গোত্রের মানুষের বসবাস। রবিদাস ও রাজভর জনগোষ্ঠীর দুর্গাপূজার চাঁদা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল সেই কর্মীর। দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে সুজন সংগৃহীত চাঁদার টাকা জমা দিতে যান। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক তার হাত থেকে টাকা না নিয়ে মাটিতে রাখতে বলেন। পরে মাটিতে রাখা টাকার ওপর জল ছিটিয়ে তিনি তা গ্রহণ করেন। চাঁদার টাকা সংগ্রহের সময় দু’-তিনজনের চাঁদা বাকি থাকায় সেই কর্মীকে ভর্ৎসনাও করা হয়। তাকে বলা হয়, ‘দুর্গাপূজা ফকিন্নিদের পূজা না, রাজা-বাদশার পূজা। ঠিকমতো পূজার চাঁদা দিতে না পারলে বারোয়ারিতে থাকার দরকার নেই।’ নিজের হাত থেকে টাকা গ্রহণ না করায় সেই কর্মী গভীর মনোকষ্টে কান্না করতে থাকে।সেদিন রাতে মন্দিরে গিয়ে সবার সামনে আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এর ফলে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও তার কতিপয় অনুসারীর বিরাগভাজন হয়ে পড়ি। তারা আমাদের অস্পৃশ্য মনে করতেন এবং আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন। এভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন করা হয়েছে। অথচ আমরা এই সমাজেরই মানুষ। আমরাও ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে চাই, পূজার্চনা করতে চাই, অন্য সবার মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই।২০২২ সালের দুর্গাপূজার আগে আমার মনে আশঙ্কা জাগে, আগের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এত দিন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় আমি অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত মানবাধিকারের এমন চরম লঙ্ঘনের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিই।আমার মনে হয়েছিল, হয়তো কোনো সমাধানই হবে না। কিন্তু দুর্গাপূজার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী হিসেবে আমিও চিঠি পাই।এরপর থেকেই আমার এলাকায় অস্পৃশ্যতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে শুরু করে। অনেকেই এমন ঘটনার নিন্দা জানান এবং দ্রুত সমাধানের দাবি তোলেন। আমার সাহসী ভূমিকার জন্য কেউ কেউ প্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ একে বাড়াবাড়ি বলেও মন্তব্য করেন।তবে আমি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট ছিলাম। কারণ, আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক আচরণের একটি সুষ্ঠু সমাধান আসন্ন-এমন আশা করতে শুরু করেছিলাম। এরই মধ্যে বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে আমাকে বিষয়টি এখানেই শেষ করে দেওয়ার অনুরোধ, প্রস্তাব এমনকি হুমকিও দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু আমি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অটল ছিলাম। এমন কথাও প্রচার করা হয়, ‘মাস্টারের মতো সম্মানী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিপন মামলা করেছে। এটা কি ঠিক?’আমি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখিনি। আমার কাছে এটি ছিল মানবাধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন। তাই জনমত গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা দেওয়া আবেদনের ফটোকপি বিভিন্ন নাগরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠন এবং সংগঠকদের কাছে পাঠাতে থাকি।এই উদ্যোগের ফলে অনেকেই জাতপাতের কুফল সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তারা উপলব্ধি করতে পারেন, জাতপাতের ধারণা কীভাবে নীরব ঘাতকের মতো মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনমত গঠনের এই প্রক্রিয়া আমাকে অনেক বেশি সাহস ও শক্তি জুড়িয়েছিল।অবশেষে পূর্বনির্ধারিত সময়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও মহোদয় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। অভিযুক্ত পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়। আমিও অভিযোগকারী হিসেবে আমি পূজা কমিটির সঙ্গে মিলেমিশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে লিখিত দিই। পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদকে ও তার অনুসারীরা ভবিষ্যতে রবিদাসসহ দলিত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মন্দিরে প্রবেশ, পূজার্চনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য না করার বিষয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেন। এভাবেই দীর্ঘদিনের অপমান, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের পর মন্দিরে প্রবেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একটি ইতিবাচক সমাধান আসে।ঘটনাটির একটি সুষ্ঠু সমাধান এসেছে বলা যায়। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। ওই দিনের পর থেকে আমি লক্ষ করেছি, পাড়ার বেশ কয়েকজন আমাকে এড়িয়ে চলেন। যদিও আমি তাদের সঙ্গে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে মিশতে চেষ্টা করেছি। আমার জীবনের এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, অস্পৃশ্যতার শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত। জাতপাতের ধারণায় বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে এমন এক মনস্তত্ত্ব গড়ে ওঠে, যা কেবল নির্দেশ কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।আমরা যতই বৈষম্য বিলোপের আইন দাবি করি না কেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমাজ থেকে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য দূর হবে না। এর জন্য প্রয়োজন মানুষের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তবে বাংলাদেশে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা অত্যন্ত জরুরি। এমন আইন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জাতপাতের ধারণা থেকে উদ্ভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ না পায়। পাশাপাশি অপরাধের প্রতিকার, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেই সময়ের উদ্যোগ আমার পাড়ায় অন্তত মানবতার একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। আমি উপলব্ধি করেছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। বৈষম্যের শিকার হয়ে নীরব থাকলে বৈষম্য আরও শক্তিশালী হয়। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা, সাহস, সংগঠিত উদ্যোগ এবং আইনি প্রতিকার গ্রহণের মানসিকতা থাকা জরুরি।আমার এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি পরিবারের কিংবা একটি জনগোষ্ঠীর মন্দিরে প্রবেশের অধিকারের লড়াই নয়; এটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই। কোনো মানুষের পরিচয় তার পেশা, জন্ম কিংবা জাতপাত দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সমান মর্যাদা, অধিকার ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে।আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কাউকে তার জন্মপরিচয়ের কারণে অপমানিত হতে হবে না; যেখানে ধর্মীয় উপাসনালয়ের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে; যেখানে মানুষের মূল্যায়ন হবে তার মানবিক গুণাবলি ও কর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের পরিচয়ে নয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে-পেশা কিংবা জাতপাতের পরিচয়ে নয়। এমন সমাজই আমাদের কাম্য।(মতামত লেখকের নিজস্ব)[লেখক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বগুড়া-৫]

অস্পৃশ্যতার শিকল ভাঙার লড়াই