সংবাদ

ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি : দুদকের মামলা


প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি : দুদকের মামলা
ছবি : সংবাদ

এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতর ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে ব্যাংক ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাথের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ও তার এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমীন সংবাদমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন–অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তার সহযোগী ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)।

কৌশল ও অর্থ আত্মসাৎ

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুল হোসেন শাখাটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলে ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেন।

অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। এক হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরের অংশে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট লুকিয়ে রাখতেন। ফলে বাইর থেকে বান্ডিলগুলো স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ মনে হলেও ভেতরের প্রকৃত হিসাবে বড় অঙ্কের ঘাটতি থেকে যেত।

ঘটনা উন্মোচন ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

গত ৯ আগস্ট ব্যাংকিং লেনদেন শেষে নিয়মিত ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলাতে গিয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার এই বিরাট ঘাটতি ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের টানা জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তা কামরুল কোনো সন্তোষজনক জবাব বা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

পরবর্তী সময়ে পুলিশি জিজ্ঞাসবাদে কামরুল স্বীকার করেন, ভল্ট থেকে সরানো টাকা তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হতো। আত্মসাৎ করা এই অর্থ দিয়ে আসামিরা যৌথভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই খামারে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ।

আইনি পদক্ষেপ

দুদক জানায়, গত ১০ আগস্ট কামরুল ও তানভীরকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে এর কেস ডকেট দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে ১৯ অক্টোবর নতুন করে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) ও ১০৯ (সহযোগিতা) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ভল্টের অর্থ আত্মসাৎ এবং তা দিয়ে খামার গড়ার বিষয়টি এখন পুরোপুরি দুদকের তদন্তের আওতায় এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি : দুদকের মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতর ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে ব্যাংক ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাথের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ও তার এক সহযোগীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমীন সংবাদমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন–অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তার সহযোগী ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)।

কৌশল ও অর্থ আত্মসাৎ

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. কামরুল হোসেন শাখাটির ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশলে ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেন।

অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। এক হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরের অংশে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট লুকিয়ে রাখতেন। ফলে বাইর থেকে বান্ডিলগুলো স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ মনে হলেও ভেতরের প্রকৃত হিসাবে বড় অঙ্কের ঘাটতি থেকে যেত।

ঘটনা উন্মোচন ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

গত ৯ আগস্ট ব্যাংকিং লেনদেন শেষে নিয়মিত ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলাতে গিয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার এই বিরাট ঘাটতি ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের টানা জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তা কামরুল কোনো সন্তোষজনক জবাব বা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

পরবর্তী সময়ে পুলিশি জিজ্ঞাসবাদে কামরুল স্বীকার করেন, ভল্ট থেকে সরানো টাকা তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হতো। আত্মসাৎ করা এই অর্থ দিয়ে আসামিরা যৌথভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই খামারে ৫০ থেকে ৬০টি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ।

আইনি পদক্ষেপ

দুদক জানায়, গত ১০ আগস্ট কামরুল ও তানভীরকে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে এর কেস ডকেট দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে ১৯ অক্টোবর নতুন করে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) ও ১০৯ (সহযোগিতা) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ভল্টের অর্থ আত্মসাৎ এবং তা দিয়ে খামার গড়ার বিষয়টি এখন পুরোপুরি দুদকের তদন্তের আওতায় এসেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত