রম্যগদ্য: “বোইল্লা মারো হাসি, বাঁচবা একশ আশি”
হেঁ হেঁ, কথাটা ঠিক, আমি দেখছি রমনা পার্কে এক ব্যাটা বোইল্লা উডে “হাসো” ফাৎ করি বিশ তিরিশ জন পাবলিকে হো হো কইরা হাসে, আর কয় যত হাসবা, তত আয়ু বাড়বো!আরে বুড়বক, উড়ঝুড়ে বাঙাল, আমি যে হাঁসির কথা বলছি, সে হাঁসি তোর এই রমনা পার্কের হাসি নয়!আরে মিয়া ভাই আপনেই তো কোইতাছেন, “বোইল্লা মারো হাসি,বাঁচবা একশ আশি” হাসলে যে পাবলিকে বেশি দিন বাঁচে হেই কতাটা ব্যেবাগ পাবলিকেই জানে।হাসলেই যদি আয়ু বাড়ে, তাহলে বিশ্বের সবাই না হেসে কেবল রমনা পার্কের গুটি কয় লোক হাসছে ক্যানো?ক্যান, আপনে মিয়া দেখছেন না! রাস্তাঘাটে কত পাগলে একলা একলা হাসতাছে। কোনো কারণ ছাড়াই হাসতাছে। জানেন এই হাসির ঠেলায় এক এক পাগলে দেড়শ দুইশ বছর র্পযন্ত বাঁচে।তাহলে তুই রাস্তায় রাস্তায় হেসে হেসে ঘুরে বেড়াচ্ছিস না ক্যানো। তাহলেতো তুই দেড়শ দুইশ বছর র্পযন্ত বাঁচতে পারবি।হ’দেড়শ দুইশ বছর! বৌ-এর ছুট্টোভাই, মাত্র চুয়ান্ন বছর বাঁইচ্চায়, বাপ বাপ বইল্লা, কয় ছেইড়দে মা কেইন্দে বাঁচি।ক্যানো ক্যানো মাত্র চুয়ান্নো বছরেই কান্নাকাটি শুরু করেছিস...কাঁদবো না মিয়া, গাজর ১৮০ টাকা কেজি, এক লিটার তেল ২০০ টাকা, টমেটো ২০০টাকা, চাউল...থাম ভাই থাম, তোকে আর বাজার দর শোনাতে হবে না...ঠিক আছে ঠিক আছে, বাজার হিসাব না হয় ছাইড়া দিলাম, কিন্তু মাস্টারে যখন ছাত্রীরে অতিআচার করের তখন কি আমি হাসুম!“এতক্ষণে”— অরিন্দম কহিলা বিষাদে;— / “জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল / রক্ষঃপুরে।মানে কী! এহানে আবার মাইকেল হান্দাইলো কেমনে?মাইকেল মধূসুদন দত্তের “মেঘনাদ বধ” কাব্যের কথা বলছি না, বলছি তুই এতক্ষণে লাইনে এসেছিস।লাইনে আইছি মাইনে?তুই বললি না, মাস্টারে যখন ছাত্রীরে অতিআচার করের তখন কি আমি হাসুম! আমি তোর ওই হাসার কথায় বলছিলাম। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের “বিদ্রোহী” কবিতার দুটি পঙ্ক্তি শোন “আমি বেদূঈন, আমি চেঙ্গিস, / আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ... / ... আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!”হেঁ হেঁ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও কোইছে, আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া / হাসি পুষ্পের হাসি...আসলে কথাটা হোইবো “আমি বাংলদেশের দোজোখে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি...” হ্যাঁ হ্যাঁ শিক্ষক যখন ছাত্রীকে অত্যাচার করবে তখন ওই জাহান্নামের মতো নোংরা পরিবেশেও তুই পুষ্পের হাসি হাসবি!ওম্মা এইটা আপনি কি বলছেন! নোংরা পরিবেশ, আপনে শুনেন নাই, আপনের বৌ-এর এক ছুট্টভাই কোইছে, মাস্টার গো কি স্বাদ আহাল্লাদ নাই, হ্যারা ছাত্রীরে ইকটু আধটু, আদর করলে আপনে কোইবেন ব্যাড টাচ! আপনেরা মিয়া নুংরা মানসিকতার অভিভাবক! মাস্টার সমাজে সম্মানিত ব্যাক্তিত্ব, হ্যায় আদর কোইরা আপনের আত্মজার ওষ্ঠে স্নেহের নির্দশন লেপন করছে, আর আপনে বর্বর অভিভাবক সম্মানিত মাস্টাররে থাপ্পড় মাইরা বোইলেন!একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে! তুই এইসব মাস্টারদের ছাত্রদের, ছাত্রীদের সাথে উন্নত দণ্ড দিয়ে আঘাত করাকে, অত্যাচার করাকে, ব্যাডটাচকে মেনে নিতে বলছিস!আরে আমি মাইন্না নিতে কমু ক্যা, আপনে দ্যাখেন নাই বাংলার ঘরে ঘরে, বাংলার পাড়ায় পাড়ায়, বাংলার মহল্লায় মহল্লায়, বাংলার গ্রামে গঞ্জে, শহরে শহরে আপনের দেশে, আপনের কওমে বসবাসকারি ব্যাবাগ পাবলিকে মিছিল কোইরা কোইতাছে মাস্টারদের কোনো টাচ, ব্যাড টাচ বলা চলবে না। আত্মজার ওষ্ঠে স্নেহের নির্দশন লেপন করলে, সম্মানিত মাস্টাররে থাপ্পড় মারা চলবে না, চলবে না!এ কোন বাংলাদেশের কথা, এ কোন সোনার বাংলার কথা বলছিস, যেখানে মাস্টারদের ছাত্রদের, ছাত্রীদের সাথে অত্যাচার করাকে, ব্যাড টাচকে মিছিল মিটিং করে মেনে নিতে বলছিস!দ্যাখেন খুবতো তখন কোইছিলেন বর্বর পাকিস্তানিরা আমাগো শোষণ করে তাই পাকিস্তানি খ্যাদাও। আর আপনেগো ভায়ে ভায়ে ফাইটের চিপা দিয়া ইন্ডিয়া ঢুইক্কা দিল পাকিস্তান ভাইঙ্গা। আর পাকিস্তান ভাঙ্গার পরে আপনেরা কী করলেন পাকিস্তান আমলের, কান্দির পাড়া, নারায়ণগঞ্জের টানপাড়া, যশোর, খুলনা, চট্টগ্রাম, নাটোরের বনলতা সেনের, রাজশাহীর সব শাহী পাড়া ভাইঙ্গা দিলেন, লন এবার পাবলিকে তার মাল সামানা রাখবো কোই? কন কন এবার সারা দেশের ব্যাবাগ অবিবাহিত টগবগে তরুণ ও তরুণ মাস্টাররা তাগো মাল-সামানা রাখবো কোই? সব পাড়া তো ভাইঙ্গা দিছেন...এ্যাঁ তরুণদের মাল-সামানা মানে জিনিসপত্র রাখার জন্য তুই আবার পাকিস্তান আমলের সব পাড়া গড়তে বলছিস! আমি গড়তে কমুক্যা, আপনে দ্যাখেন না মিয়া, সারা বিশ্বে উন্নত দেশ মানে ফ্রান্সে, আমেরিকায়, ইংল্যান্ডে, রাশিয়ায়, মুলাঘুঁজ, পিকাডেলি স্কয়ার, লাসভেগাস, লেলিন গ্রাদ, ব্যাবাগ যায়গায় হ্যাগো দেশের টগবগে তরুণের ও তরুণ মাস্টারদের মাল সামান রাখার ব্যবস্থা করছে...বলিস কী? উন্নত বিশ্বে মানে ফ্রান্সে, আমেরিকায়, ইংল্যান্ডে, রাশিয়ায়, সব দেশে, দেশের টগবগে তরুণ মাস্টারদের মাল সামান রাখার ব্যবস্থা করেছে...করেছে মাইনে! আপনের প্রতিবেশী ভারতের বুধবার পেট, কলিকাতার সোনাগাছি, বম্বের কোলাবা, মাদ্রাসের আভিরামী ব্যাবাগ জায়গায় দেশের টগবগে তরুণের, তরুণ মাস্টারদের সমস্যা সমাধান করছে, আর ব্যাংককের পাতপোং কত্তবড় গোডাউন, সারা বিশ্বে জোড়া নাম...তাই বলে এই পবিত্র বাংলাদেশে এইসব গোডাউন মানে, পাকিস্তান আমলের সব পাড়াগুলো আবার গড়তে বলছিস!আমি কমুক্যা, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম স্যারে কোইছেন, “ভাঙিছো গড়িছো নীতি ক্ষণে ক্ষণে, নিরজনে প্রভু নিরজনে...” আপনেরা সমাজের ভালোর জন্য নীতি ভাঙেন গড়েন...তার মানে সমাজের কোমলমতি শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পবিত্রতা রক্ষার জন্য, কোমলমতি শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য অপবিত্র পাড়া সৃষ্টি করতে হবে?আপনে মিয়া আছেন আপনের তালে, এই যে পুলিশের বড় স্যার তার নিজের দুই মেয়ের সাথে মিলে তরুণ ও তরুণ শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করছিলেন হ্যেইডাওতো আপনেগো সহ্য হোইলো না...তাইতো রে, তরুণ শিক্ষকদের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে উন্নত দণ্ড দিয়ে আঘাত করাকে, অত্যাচার করাকে, ব্যাড টাচকে মেনে নিবো, নাকি উন্নত বিশ্বের মতো, আবার শহরে শহরে, জেলায় জেলায়, গঞ্জে গঞ্জে, পাড়া গড়বো![লেখক: চলচ্চিত্রকার]