সংবাদ

পুণ্ড্রনগরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আর বিতর্ক নয়


শাহানূর শাহিন
শাহানূর শাহিন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

পুণ্ড্রনগরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আর বিতর্ক নয়
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের ভাসু বিহার গ্রামে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ভাসুবিহার

পুণ্ড্র সভ্যতা বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ, যার কেন্দ্র ছিল বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতক বা তারও আগে প্রায় চার হাজার বছর আগে দ্বিতীয় নগর সভ্যতার সময়ে উত্তরবঙ্গে এই উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।

অষ্টম শতকে প্রাচীন বাংলার একটি অন্যতম প্রধান বৌদ্ধ মঠ ও উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র ছিল বগুড়ার ভাসুবিহার। এটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের প্রথম ও প্রাচীন ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। অর্থাৎ আমাদের ভাসুবিহার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিহার ছিল মূলত একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ধর্মশিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও শিল্পকলা পঠিত হতো।

সভ্যতা এক জায়গায় স্থির থাকে না। সভ্যতা চলমান। একবার ভাবুন, আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা ফিরে এসে আবারও আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর আমরা সঠিক সময়ে দরজা না খুলতে পারার কারণে সভ্যতার জাহাজটি নোঙর করছে অন্য তীরে!

যেমনটি ঘটেছিল ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে। ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ বগুড়ায় নেওয়া হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আর স্থান নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বগুড়া থেকে গিয়ে নোঙর করেছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

একবার ভাবুন, হারিয়ে যাওয়া সেই দ্বিতীয় নগর সভ্যতার পুণ্ড্র অঞ্চল তথা বগুড়া মহানগরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। মেধাবী ও যোগ্য গবেষকদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ল্যাবগুলো দিন-রাত খোলা। সেগুলোতে কাজ করছে আমাদের ছেলেমেয়েরা। সরকার তাদের গবেষণা কর্মের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। টিউশনি করে তাদের আর সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না। ল্যাবগুলোর সঙ্গে আছে ক্যাফেটেরিয়া। তারা সেখানে ধোঁয়াওঠা কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে নতুন নতুন ভাবনার দৃশ্যপট তৈরি করছে। সমস্ত ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলে আবারও হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে কাজ করে যাবে।

আমাদের কাছে এসব স্বপ্নের মতো শোনালেও এমন পরিবেশেই সারা দুনিয়ার ছেলেমেয়েরা কাজ করছে। আমরা যদি এমন পরিবেশ তৈরি করে দিই, তাহলে দেশকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে তার আপন গতিতে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আর উন্নত বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ গবেষকদের হাত ধরেই।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর উন্নয়নবঞ্চিত এই জনপদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশের পর ‘বগুড়া ইউনিভার্সিটি’ নামে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি সনদ প্রদানকারী গতানুগতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন আর আঞ্চলিক তথা পুরো দেশের উন্নয়নের এক নতুন পৃষ্ঠা উন্মোচন করবে।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো “তেত্রিশ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি”। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট প্রকাশ করে কথা রেখেছেন। এ জন্য এই জনপদের গণমানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক অভিলাষ ও কৃতজ্ঞতা।

আইন পাস হওয়ার পর এই জনপদের মানুষ বিজয় মিছিল ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরিবর্তে স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক টানে বিভক্ত হয়ে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও ফেসবুকে একের পর এক বিষোদ্গার ছড়াচ্ছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের অধিকার সবারই আছে; তবে সেই অধিকার যেন জনস্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও জেলার তথা প্রধানমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ না করে, সেদিকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হবে, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন স্থানটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা আর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বেশি উপযোগী, সেটা সবার আগে ভাবা উচিত। এই সিদ্ধান্ত আবেগ বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে না নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত ও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় গ্রহণ করা উচিত। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্থান নির্ধারণ করা জরুরি। আমরা যেন এমন কোনো কাজ না করি, যাতে বগুড়ার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়টি হারিয়ে না ফেলি।

দুনিয়ার সবকিছু তৈরি করে মেধাবীরা, আর মেধাবীদের তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বগুড়ার যেখানেই হোক—আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে, এতেই আমরা খুশি।

সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার ভাষায় বলি—“গোল হয়ে আসুন, সকলে ঘন হয়ে আসুন সকলে,/ আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে। ...”

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে অভিবাদন জানিয়ে বলি—তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ, তুমি ফিরে এসেছ তোমার মানচিত্রের ভেতরে, যার ডানা এখন রক্ত আর অশ্রুতে ভেজা।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


পুণ্ড্রনগরে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আর বিতর্ক নয়

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পুণ্ড্র সভ্যতা বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ, যার কেন্দ্র ছিল বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতক বা তারও আগে প্রায় চার হাজার বছর আগে দ্বিতীয় নগর সভ্যতার সময়ে উত্তরবঙ্গে এই উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।

অষ্টম শতকে প্রাচীন বাংলার একটি অন্যতম প্রধান বৌদ্ধ মঠ ও উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র ছিল বগুড়ার ভাসুবিহার। এটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের প্রথম ও প্রাচীন ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এটি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। অর্থাৎ আমাদের ভাসুবিহার ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিহার ছিল মূলত একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ধর্মশিক্ষা, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও শিল্পকলা পঠিত হতো।

সভ্যতা এক জায়গায় স্থির থাকে না। সভ্যতা চলমান। একবার ভাবুন, আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা ফিরে এসে আবারও আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর আমরা সঠিক সময়ে দরজা না খুলতে পারার কারণে সভ্যতার জাহাজটি নোঙর করছে অন্য তীরে!

যেমনটি ঘটেছিল ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে। ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ বগুড়ায় নেওয়া হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আর স্থান নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বগুড়া থেকে গিয়ে নোঙর করেছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

একবার ভাবুন, হারিয়ে যাওয়া সেই দ্বিতীয় নগর সভ্যতার পুণ্ড্র অঞ্চল তথা বগুড়া মহানগরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব তৈরি করা হয়েছে। মেধাবী ও যোগ্য গবেষকদের সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ল্যাবগুলো দিন-রাত খোলা। সেগুলোতে কাজ করছে আমাদের ছেলেমেয়েরা। সরকার তাদের গবেষণা কর্মের বিনিময়ে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। টিউশনি করে তাদের আর সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না। ল্যাবগুলোর সঙ্গে আছে ক্যাফেটেরিয়া। তারা সেখানে ধোঁয়াওঠা কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে নতুন নতুন ভাবনার দৃশ্যপট তৈরি করছে। সমস্ত ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলে আবারও হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে কাজ করে যাবে।

আমাদের কাছে এসব স্বপ্নের মতো শোনালেও এমন পরিবেশেই সারা দুনিয়ার ছেলেমেয়েরা কাজ করছে। আমরা যদি এমন পরিবেশ তৈরি করে দিই, তাহলে দেশকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে তার আপন গতিতে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আর উন্নত বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ গবেষকদের হাত ধরেই।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর উন্নয়নবঞ্চিত এই জনপদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশের পর ‘বগুড়া ইউনিভার্সিটি’ নামে পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি সনদ প্রদানকারী গতানুগতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন আর আঞ্চলিক তথা পুরো দেশের উন্নয়নের এক নতুন পৃষ্ঠা উন্মোচন করবে।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো “তেত্রিশ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি”। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেজেট প্রকাশ করে কথা রেখেছেন। এ জন্য এই জনপদের গণমানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক অভিলাষ ও কৃতজ্ঞতা।

আইন পাস হওয়ার পর এই জনপদের মানুষ বিজয় মিছিল ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরিবর্তে স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক টানে বিভক্ত হয়ে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও ফেসবুকে একের পর এক বিষোদ্গার ছড়াচ্ছেন। গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের অধিকার সবারই আছে; তবে সেই অধিকার যেন জনস্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি ও জেলার তথা প্রধানমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ না করে, সেদিকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হবে, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন স্থানটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা আর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বেশি উপযোগী, সেটা সবার আগে ভাবা উচিত। এই সিদ্ধান্ত আবেগ বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে না নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত ও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় গ্রহণ করা উচিত। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্থান নির্ধারণ করা জরুরি। আমরা যেন এমন কোনো কাজ না করি, যাতে বগুড়ার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়টি হারিয়ে না ফেলি।

দুনিয়ার সবকিছু তৈরি করে মেধাবীরা, আর মেধাবীদের তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বগুড়ার যেখানেই হোক—আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে, এতেই আমরা খুশি।

সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার ভাষায় বলি—“গোল হয়ে আসুন, সকলে ঘন হয়ে আসুন সকলে,/ আমার মিনতি আজ স্থির হয়ে বসুন সকলে। ...”

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাকে অভিবাদন জানিয়ে বলি—তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ, তুমি ফিরে এসেছ তোমার মানচিত্রের ভেতরে, যার ডানা এখন রক্ত আর অশ্রুতে ভেজা।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত