গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পক্ষের মারপিঠে তৃতীয় পক্ষের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের খাইরুজ্জামানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তার সৎ ভাই গোলজার হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রবিবার দুপুরে স্থানীয় সাজু ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে এক সালিশ বৈঠকের ডাক দেন।
সালিশে চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই গোলজার হোসেনের স্ত্রী ও ছেলেরা হঠাৎ আব্দুর রাজ্জাকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–মো. গোলজার হোসেন, তার দুই ছেলে লিটন মিয়া ও রিপন মিয়া এবং দুই নারী রতনা বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগম।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রাম আদালত ও সালিশ বৈঠকের পরিবেশ এখন নাই। মানুষের আচারণ অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কাউকে সম্মান দেয় না বা কথা শুনে না।’ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ বলেন, মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে সালিশি বৈঠকেও মানুষ পিটিয়ে হত্যার সাহস পাচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। গ্রেপ্তার আসামিরা থানা হাজতে রয়েছেন।
\

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পক্ষের মারপিঠে তৃতীয় পক্ষের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক ওই গ্রামের খাইরুজ্জামানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তার সৎ ভাই গোলজার হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রবিবার দুপুরে স্থানীয় সাজু ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে এক সালিশ বৈঠকের ডাক দেন।
সালিশে চেয়ারম্যান ছাড়াও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই গোলজার হোসেনের স্ত্রী ও ছেলেরা হঠাৎ আব্দুর রাজ্জাকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–মো. গোলজার হোসেন, তার দুই ছেলে লিটন মিয়া ও রিপন মিয়া এবং দুই নারী রতনা বেগম ও মঞ্জুয়ারা বেগম।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রাম আদালত ও সালিশ বৈঠকের পরিবেশ এখন নাই। মানুষের আচারণ অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। কেউ কাউকে সম্মান দেয় না বা কথা শুনে না।’ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ বলেন, মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে গেছে যে সালিশি বৈঠকেও মানুষ পিটিয়ে হত্যার সাহস পাচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। গ্রেপ্তার আসামিরা থানা হাজতে রয়েছেন।
\

আপনার মতামত লিখুন