সংবাদ

সাধুবাবার বটগাছ: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

সাধুবাবার বটগাছ: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী
শতবর্ষী ‘সাধুবাবার’ বটগাছ। ছবি : সংবাদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভানুগাছ সড়কের পাশে বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের সামনে এক শতবর্ষী বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘সাধুবাবার বটগাছ’ নামে পরিচিত। গাছটি কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বহু লোমহর্ষক ও বিষাদময় স্মৃতির এক নীরব সাক্ষী।

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে শ্রীমঙ্গল ছিল প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষণের পর শ্রীমঙ্গলে গণজাগরণ শুরু হয়। ন্যাপ নেতা রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, মো. শাজাহান মিয়া ও সৈয়দ মুয়ীজুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিল-সমাবেশে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। মেজর সি আর দত্ত, মেজর নুরুজ্জামান ও কর্নেল ওসমানীর মতো বীর সেনানীদের উপস্থিতি প্রতিরোধযুদ্ধে শক্তি জুগিয়েছিল।

তবে ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে তারা শুরু করে দমন-পীড়ন। অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো এই বটগাছের নিচে। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভূরভূরিয়া ছড়া তখন হয়ে উঠেছিল শহিদদের রক্তে রঞ্জিত এক বধ্যভূমি।

এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। শ্রীমঙ্গলের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন ১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল নূরুল হুদার (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) নেতৃত্বে এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে স্মৃতিস্তম্ভ ও ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১’ ভাস্কর্য নির্মিত হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ ফুট উঁচু স্মারক স্তম্ভ ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ চলছে।

প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এই ‘বধ্যভূমি ৭১’ প্রাঙ্গণে আসেন। ৪ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল শত্রুমুক্ত হলেও এই বটগাছ ও ভূরভূরিয়া ছড়া আজও বহন করে চলেছে সেই ভয়াল দিনগুলোর স্মৃতি। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক যেন এই গাছের শিকড়ে খোদাই হয়ে আছে, যা বর্তমান প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার ত্যাগ আর বীরত্বের কথা।

\

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


সাধুবাবার বটগাছ: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভানুগাছ সড়কের পাশে বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের সামনে এক শতবর্ষী বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘সাধুবাবার বটগাছ’ নামে পরিচিত। গাছটি কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বহু লোমহর্ষক ও বিষাদময় স্মৃতির এক নীরব সাক্ষী।

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে শ্রীমঙ্গল ছিল প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষণের পর শ্রীমঙ্গলে গণজাগরণ শুরু হয়। ন্যাপ নেতা রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, মো. শাজাহান মিয়া ও সৈয়দ মুয়ীজুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিল-সমাবেশে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। মেজর সি আর দত্ত, মেজর নুরুজ্জামান ও কর্নেল ওসমানীর মতো বীর সেনানীদের উপস্থিতি প্রতিরোধযুদ্ধে শক্তি জুগিয়েছিল।

তবে ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে তারা শুরু করে দমন-পীড়ন। অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো এই বটগাছের নিচে। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভূরভূরিয়া ছড়া তখন হয়ে উঠেছিল শহিদদের রক্তে রঞ্জিত এক বধ্যভূমি।

এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। শ্রীমঙ্গলের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তৎকালীন ১৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল নূরুল হুদার (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) নেতৃত্বে এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে স্মৃতিস্তম্ভ ও ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১’ ভাস্কর্য নির্মিত হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ ফুট উঁচু স্মারক স্তম্ভ ও দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ চলছে।

প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এই ‘বধ্যভূমি ৭১’ প্রাঙ্গণে আসেন। ৪ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গল শত্রুমুক্ত হলেও এই বটগাছ ও ভূরভূরিয়া ছড়া আজও বহন করে চলেছে সেই ভয়াল দিনগুলোর স্মৃতি। ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক যেন এই গাছের শিকড়ে খোদাই হয়ে আছে, যা বর্তমান প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার ত্যাগ আর বীরত্বের কথা।

\


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত