সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী এক কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি থাকার নিয়ম নেই। তবে অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে টানা ১৬ বছর ধরে ফেনী পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে জেঁকে বসে আছেন বিপ্লব কুমার নাথ। দীর্ঘ এই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৬ নভেম্বর ফেনী পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন বিপ্লব কুমার নাথ। এরপর থেকে ১৬ বছর ধরে তিনি একই দপ্তরে কর্মরত। এই সময়ের মধ্যে অনেক বড় কর্মকর্তা বদলি হলেও বিপ্লব কুমার নাথ তার পদটি ধরে রেখেছেন। এমনকি ২০১৮ সালে একবার তার বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনকভাবে তা স্থগিত হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর একই দপ্তরে থাকার সুবাদে পুরো পৌরসভাকে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন তিনি। নামে-বেনামে ফেনীর চেওরিয়া ও সুলতানপুর মৌজা এবং ঢাকার মিরপুরে তার বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার সময় বিপ্লব কুমার নাথ নিজেই ১ শতাংশ কমিশন নেন। কাজ শেষ হওয়ার পর বিল পাসের ক্ষেত্রেও চলে তাঁর কমিশন বাণিজ্য। প্রকল্পের ভ্যাট ও আইটি বাদে ৩ শতাংশ প্রশাসক, ৫০ পয়সা নির্বাহী প্রকৌশলী, ৫০ পয়সা অফিস খরচ এবং অবশিষ্ট ১ শতাংশ অর্থ তিনি নিজের জন্য দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিপ্লব কুমারের দৌরাত্ম্য কমেনি। তিনি এখন নতুন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন কৌশলে কমিশন আদায়ের চেষ্টা করছেন। এমনকি বিগত সরকারের সময় বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদাররা পালিয়ে গেলেও ওই প্রকৌশলী তাদের অসমাপ্ত কাজের বিল পরিশোধে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পৌর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এখানে কর্মরত থাকলেও আমার বদলির আদেশ স্থগিত হওয়া বা থাকার পেছনে কোনো হাত নেই। সিন্ডিকেট গড়ে তোলা বা কমিশন আদায়ের অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমি সরকারি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।’
/

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী এক কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি থাকার নিয়ম নেই। তবে অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে টানা ১৬ বছর ধরে ফেনী পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে জেঁকে বসে আছেন বিপ্লব কুমার নাথ। দীর্ঘ এই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৬ নভেম্বর ফেনী পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন বিপ্লব কুমার নাথ। এরপর থেকে ১৬ বছর ধরে তিনি একই দপ্তরে কর্মরত। এই সময়ের মধ্যে অনেক বড় কর্মকর্তা বদলি হলেও বিপ্লব কুমার নাথ তার পদটি ধরে রেখেছেন। এমনকি ২০১৮ সালে একবার তার বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনকভাবে তা স্থগিত হয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১৬ বছর একই দপ্তরে থাকার সুবাদে পুরো পৌরসভাকে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন তিনি। নামে-বেনামে ফেনীর চেওরিয়া ও সুলতানপুর মৌজা এবং ঢাকার মিরপুরে তার বিশাল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার সময় বিপ্লব কুমার নাথ নিজেই ১ শতাংশ কমিশন নেন। কাজ শেষ হওয়ার পর বিল পাসের ক্ষেত্রেও চলে তাঁর কমিশন বাণিজ্য। প্রকল্পের ভ্যাট ও আইটি বাদে ৩ শতাংশ প্রশাসক, ৫০ পয়সা নির্বাহী প্রকৌশলী, ৫০ পয়সা অফিস খরচ এবং অবশিষ্ট ১ শতাংশ অর্থ তিনি নিজের জন্য দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নানা অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিপ্লব কুমারের দৌরাত্ম্য কমেনি। তিনি এখন নতুন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন কৌশলে কমিশন আদায়ের চেষ্টা করছেন। এমনকি বিগত সরকারের সময় বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদাররা পালিয়ে গেলেও ওই প্রকৌশলী তাদের অসমাপ্ত কাজের বিল পরিশোধে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পৌর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এখানে কর্মরত থাকলেও আমার বদলির আদেশ স্থগিত হওয়া বা থাকার পেছনে কোনো হাত নেই। সিন্ডিকেট গড়ে তোলা বা কমিশন আদায়ের অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমি সরকারি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।’
/

আপনার মতামত লিখুন