সংবাদ

পরিত্যক্ত এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ : জনগণের অর্থের অপচয়


প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

পরিত্যক্ত এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ : জনগণের অর্থের অপচয়

চট্টগ্রাম নগরের ওয়্যারলেস এলাকায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ উদ্বোধনের মাত্র দুই মাস পরই বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সিঁড়ির ধাপ চুরি হয়েছে, লোহার অংশে মরিচা ধরেছে। প্রবেশপথে ঝুলছে তালা। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের দুর্ভাগ্যজনক অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত চলন্ত সিঁড়িযুক্ত এই পদচারী-সেতু।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ফুটওভারব্রিজটি উদ্বোধন করে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের রোগীসহ সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুবিধা দেওয়া। করোনা মহামারির কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু করা হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল নিয়ে জটিলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং স্থান নির্বাচনের ভুলের কারণে সেতুটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, স্থানটি সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পথচারীদের চলাচল কম। ফলে মানুষ এখনও ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়নি। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এর বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না বলে জানিয়েছেন।

একটি প্রকল্প নির্মাণের আগে তার অবস্থান, ব্যবহারযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বিবেচনা করা জরুরি। এই ক্ষেত্রে কি সেটা হয়েছে? সেখানে মানুষ ফুটওভারব্রিজের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না, অথচ চার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। দেশে এমন অনেক প্রকল্পের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে নির্মাণের পর সেটার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি অথবা পরিচালনা ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

ফুটওভারব্রিজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। অচল অবস্থায় ফেলে রেখে অবকাঠামোকে আরও নষ্ট হতে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

এই প্রকল্প পরিকল্পনায় কোথায় ভুল ছিল সেটা খুঁজে দেখতে হবে। কেন এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি, কেন রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেল তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে জনগণের টাকা যাতে আর এভাবে নষ্ট না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


পরিত্যক্ত এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ : জনগণের অর্থের অপচয়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের ওয়্যারলেস এলাকায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ উদ্বোধনের মাত্র দুই মাস পরই বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সিঁড়ির ধাপ চুরি হয়েছে, লোহার অংশে মরিচা ধরেছে। প্রবেশপথে ঝুলছে তালা। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের দুর্ভাগ্যজনক অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত চলন্ত সিঁড়িযুক্ত এই পদচারী-সেতু।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ফুটওভারব্রিজটি উদ্বোধন করে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের রোগীসহ সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুবিধা দেওয়া। করোনা মহামারির কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর চালু করা হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল নিয়ে জটিলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং স্থান নির্বাচনের ভুলের কারণে সেতুটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, স্থানটি সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পথচারীদের চলাচল কম। ফলে মানুষ এখনও ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়নি। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এর বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না বলে জানিয়েছেন।

একটি প্রকল্প নির্মাণের আগে তার অবস্থান, ব্যবহারযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বিবেচনা করা জরুরি। এই ক্ষেত্রে কি সেটা হয়েছে? সেখানে মানুষ ফুটওভারব্রিজের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না, অথচ চার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। দেশে এমন অনেক প্রকল্পের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে নির্মাণের পর সেটার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি অথবা পরিচালনা ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

ফুটওভারব্রিজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। অচল অবস্থায় ফেলে রেখে অবকাঠামোকে আরও নষ্ট হতে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

এই প্রকল্প পরিকল্পনায় কোথায় ভুল ছিল সেটা খুঁজে দেখতে হবে। কেন এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি, কেন রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেল তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে জনগণের টাকা যাতে আর এভাবে নষ্ট না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত