ভরা মৌসুমেও ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরে রূপালি ইলিশের দেখা মিলছে না। সরবরাহ সংকটে মেঘনা তীরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এখন ইলিশের চেয়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০ থেকে ২,৭০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো সেখানে বড় বড় ফিশিং বোটের ভিড় নেই। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। আড়তে স্থানীয় পদ্মা ও মেঘনা নদীর অল্প কিছু ইলিশ এলেও মুহূর্তের মধ্যে তা চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পাইকারি বাজারেও এখন মাছের চেয়ে পাইকারের সংখ্যা বেশি।
মাছঘাটের ব্যবসায়ী ইমরান জানান, সরবরাহ এতই কম যে গত ২ দিন তিনি মাছ কিনে বিক্রি করতে পারছেন না। গত বছরের তুলনায় এবার কেজিতে দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। বর্তমানে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৪৫০ টাকায় এবং ছোট আকারের ইলিশ (৪০০-৬০০ গ্রাম) ১,৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহামায়া এলাকা থেকে আসা ক্রেতা মহসিন বলেন, ‘আত্মীয়র বাড়িতে পাঠানোর জন্য ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে অবাক হতে হয়। এক কেজি ইলিশের দাম দিয়ে তিন কেজি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও আমরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছি না।’
জেলেদের দাবি, নদীতে পর্যাপ্ত পানি ও স্রোত নেই। সারাদিন জাল টেনেও জ্বালানি খরচ উঠছে না। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, গত মাসে প্রতিদিন দেড় শ মণের বেশি ইলিশ এলেও এখন তা ২০ মণে নেমে এসেছে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের সংখ্যা কমেনি, তবে জালে ধরা পড়া মাছের আকার ছোট। অন্যদিকে, ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীতে নতুন নতুন প্রযুক্তির ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর গভীরতা হ্রাস ও দূষণকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
/

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ভরা মৌসুমেও ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরে রূপালি ইলিশের দেখা মিলছে না। সরবরাহ সংকটে মেঘনা তীরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এখন ইলিশের চেয়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০ থেকে ২,৭০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো সেখানে বড় বড় ফিশিং বোটের ভিড় নেই। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। আড়তে স্থানীয় পদ্মা ও মেঘনা নদীর অল্প কিছু ইলিশ এলেও মুহূর্তের মধ্যে তা চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পাইকারি বাজারেও এখন মাছের চেয়ে পাইকারের সংখ্যা বেশি।
মাছঘাটের ব্যবসায়ী ইমরান জানান, সরবরাহ এতই কম যে গত ২ দিন তিনি মাছ কিনে বিক্রি করতে পারছেন না। গত বছরের তুলনায় এবার কেজিতে দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। বর্তমানে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৪৫০ টাকায় এবং ছোট আকারের ইলিশ (৪০০-৬০০ গ্রাম) ১,৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহামায়া এলাকা থেকে আসা ক্রেতা মহসিন বলেন, ‘আত্মীয়র বাড়িতে পাঠানোর জন্য ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে অবাক হতে হয়। এক কেজি ইলিশের দাম দিয়ে তিন কেজি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও আমরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারছি না।’
জেলেদের দাবি, নদীতে পর্যাপ্ত পানি ও স্রোত নেই। সারাদিন জাল টেনেও জ্বালানি খরচ উঠছে না। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, গত মাসে প্রতিদিন দেড় শ মণের বেশি ইলিশ এলেও এখন তা ২০ মণে নেমে এসেছে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের সংখ্যা কমেনি, তবে জালে ধরা পড়া মাছের আকার ছোট। অন্যদিকে, ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, নদীর পানিতে লবণের মাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীতে নতুন নতুন প্রযুক্তির ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর গভীরতা হ্রাস ও দূষণকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
/

আপনার মতামত লিখুন