সংবাদ

রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা, দিশেহারা কৃষক


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা, দিশেহারা কৃষক
পানির তোড়ে ভেঙে গেছে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়ক। ছবি: সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় কয়েক ঘণ্টার অতি ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। রেকর্ড পরিমাণ এই বৃষ্টিতে জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য সড়ক ও শত শত হেক্টর ফসলি জমি। পানির তোড়ে কোথাও সড়ক ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কৃষকের মাছের ঘের ভেসে গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ।

স্থানীয় কৃষক ও আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমন বীজতলা, শাকসবজি ও বিভিন্ন আবাদি ফসল এখন পানির নিচে। চুয়াডাঙ্গার কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে মাঠের সব জমি পানির নিচে। পানি দ্রুত না নামলে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’ আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর আমাদের এই মরণফাঁদে পড়তে হয়।’

ভারী বর্ষণে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঁঠালতলা থেকে কুমারীদহ গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে, দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় রাস্তার পাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গর্তে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রধান সড়কটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ও এলজিইডির প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কম হবে। তবে প্রাথমিক হিসেবে ৩৬ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হেক্টর সবজি ও ৫ হেক্টর ড্রাগন বাগানসহ কয়েক শ বিঘা জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার আজমপুর, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু পাড়া-মহল্লায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ভিমরুল্লাহ এলাকার ২৭টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসন। এসব পরিবারের ১১৮ জন মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও চাল, ডাল, তেলসহ শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী ও সদর ইউএনও তিথি মিত্র।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গায় কয়েক ঘণ্টার অতি ভারী বর্ষণে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। রেকর্ড পরিমাণ এই বৃষ্টিতে জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য সড়ক ও শত শত হেক্টর ফসলি জমি। পানির তোড়ে কোথাও সড়ক ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কৃষকের মাছের ঘের ভেসে গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ।

স্থানীয় কৃষক ও আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমন বীজতলা, শাকসবজি ও বিভিন্ন আবাদি ফসল এখন পানির নিচে। চুয়াডাঙ্গার কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে মাঠের সব জমি পানির নিচে। পানি দ্রুত না নামলে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।’ আরেক কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর আমাদের এই মরণফাঁদে পড়তে হয়।’

ভারী বর্ষণে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঁঠালতলা থেকে কুমারীদহ গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে, দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় রাস্তার পাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গর্তে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রধান সড়কটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ও এলজিইডির প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কম হবে। তবে প্রাথমিক হিসেবে ৩৬ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হেক্টর সবজি ও ৫ হেক্টর ড্রাগন বাগানসহ কয়েক শ বিঘা জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার আজমপুর, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কিছু পাড়া-মহল্লায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ভিমরুল্লাহ এলাকার ২৭টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসন। এসব পরিবারের ১১৮ জন মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও চাল, ডাল, তেলসহ শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী ও সদর ইউএনও তিথি মিত্র।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত