সংবাদ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলায় বিনামূল্যে ধানের বীজ ও চারা: কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলায় বিনামূল্যে ধানের বীজ ও চারা: কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধানের বীজ ও চারা দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওইসব এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগ বা এফএমডি টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের মধ্যে ধানবীজ, কৃষি উপকরণ ও গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব তথ্য জানান।
​বন্যায় আমন ধানের বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ধানবীজ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাদের হাতে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় এখনো পানি রয়েছে এবং নতুন করে বীজ বোনা সম্ভব নয়, সেখানে সরকারি উদ্যোগে বিকল্প জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এসব বীজতলার চারা ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রস্তুত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমনের চারা রোপণ করতে পারেন।
​গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আজ থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ দল কাজ করছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি টিকার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
​মৎস্য খাতের ক্ষতির বিষয়ে আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় মৎস্য খাতে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে জরিপ চলছে এবং জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।
এছাড়াও বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি বীজতলায় নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন এবং চট্টগ্রাম জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলায় বিনামূল্যে ধানের বীজ ও চারা: কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যাকবলিত পাঁচ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ধানের বীজ ও চারা দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওইসব এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে খুরা রোগ বা এফএমডি টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিদের মধ্যে ধানবীজ, কৃষি উপকরণ ও গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদিপশুকে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব তথ্য জানান।
​বন্যায় আমন ধানের বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ধানবীজ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, তাদের হাতে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় এখনো পানি রয়েছে এবং নতুন করে বীজ বোনা সম্ভব নয়, সেখানে সরকারি উদ্যোগে বিকল্প জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এসব বীজতলার চারা ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রস্তুত হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমনের চারা রোপণ করতে পারেন।
​গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর খুরা রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আজ থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ দল কাজ করছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি টিকার আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
​মৎস্য খাতের ক্ষতির বিষয়ে আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় মৎস্য খাতে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে জরিপ চলছে এবং জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য পর্যায়ক্রমে সারাদেশে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি এসব সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।
এছাড়াও বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি বীজতলায় নিজ হাতে ধানবীজ বপন করেন এবং চট্টগ্রাম জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত