সংবাদ

সবজি কেজিতে বেড়েছে ২০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

সবজি কেজিতে বেড়েছে ২০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে।সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। মাছ ও ডিমের দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুর, ঘের ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি (আগে ছিল ৩৫০-৩৮০ টাকা), তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬০০-২৪০০ টাকা।

নারিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানালেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে সবজির সরবরাহও কমেছে। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে বেগুন ৯০-১২০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, শসা ১২০-১৬০ টাকা এবং লাউ ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে সাধারণ মানের ক্ষেত্রে ১৬০-১৮০ টাকা এবং ভালো মানের ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

তবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে (২০-৪০ টাকা), পটল ও ঢ্যাঁড়স (৪০-৬০ টাকা)। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় টমেটোর দামও কিছুটা কমে ১৫০-১৮০ টাকায় নেমেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে, পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। আগে প্রতিদিন যে পরিমাণ সবজি আসতো, এখন তার প্রায় অর্ধেক আসছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।’

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হতো ১২০-১৩০ টাকায়, এখন তা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের ডজন ১২০-১৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৯০-২০০ টাকা (আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা)।

ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দামও বেড়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যায় উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা কেজি (আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা), সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার বাস্তব প্রভাব থাকলেও কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজি ও মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তাই অন্তত এই সময় পর্যন্ত বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


সবজি কেজিতে বেড়েছে ২০-৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন অঞ্চলের আকস্মিক বন্যার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে।সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। মাছ ও ডিমের দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুর, ঘের ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি (আগে ছিল ৩৫০-৩৮০ টাকা), তেলাপিয়া ২৪০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৬০০-২৪০০ টাকা।

নারিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানালেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে সবজির সরবরাহও কমেছে। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে বেগুন ৯০-১২০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, শসা ১২০-১৬০ টাকা এবং লাউ ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে সাধারণ মানের ক্ষেত্রে ১৬০-১৮০ টাকা এবং ভালো মানের ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

তবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে (২০-৪০ টাকা), পটল ও ঢ্যাঁড়স (৪০-৬০ টাকা)। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় টমেটোর দামও কিছুটা কমে ১৫০-১৮০ টাকায় নেমেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে, পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। আগে প্রতিদিন যে পরিমাণ সবজি আসতো, এখন তার প্রায় অর্ধেক আসছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।’

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। এক সপ্তাহ আগে বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হতো ১২০-১৩০ টাকায়, এখন তা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের ডজন ১২০-১৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৯০-২০০ টাকা (আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা)।

ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দামও বেড়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যায় উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা কেজি (আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা), সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৬০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার বাস্তব প্রভাব থাকলেও কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজি ও মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ১০-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তাই অন্তত এই সময় পর্যন্ত বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত