সংবাদ

কৃষ্ণচূড়া-সোনালুর রঙে মোড়া সড়ক, পর্যটনের নতুন গন্তব্য



কৃষ্ণচূড়া-সোনালুর রঙে মোড়া সড়ক, পর্যটনের নতুন গন্তব্য
কৃঞ্চচুড়ার সারি।

চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক আকর্ষণ। শ্রীমঙ্গল–ভানুগাছ সড়কের দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া, জারুল, রাধাচূড়া ও সোনালু ফুলে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক করিডর। লাল, গোলাপি ও হলুদ ফুলের রঙে সেজে ওঠা সড়কটি এখন পর্যটক, আলোকচিত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য।

বিস্তীর্ণ চা-বাগান, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, হাওর ও লেকের জন্য শ্রীমঙ্গল বরাবরই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেই পরিচিত সৌন্দর্যের সঙ্গে ফুলে ঘেরা এই সড়ক যোগ করেছে নতুন মাত্রা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সড়কের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, বাস্তবের সৌন্দর্য ছবির চেয়েও বেশি মোহময়।

এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশক আগের একটি উদ্যোগ। একটি চা কোম্পানির উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই চারাগাছগুলো এখন বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে পুরো সড়ককে রঙিন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে।

কিশোরগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক ঝুমা ধর বলেন, “শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এই ফুলে ঘেরা সড়ক দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। অনেক ছবি ও ভিডিও তুলেছি। বাস্তবে জায়গাটি আরও বেশি সুন্দর।”

ফুলের বাহার সড়কজুড়ে

স্থানীয় বাসিন্দা আফম আব্দুল হাই ডন বলেন, “ফেসবুকে ছবি দেখে পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে এসে মনে হয়েছে, ছবির চেয়েও বাস্তবের সৌন্দর্য অনেক বেশি। তবে এটি ব্যস্ত সড়ক। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।”

ফুলেল এই সড়ককে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আশপাশের চায়ের দোকান, কফিশপ, ছোট হোটেল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতা বেড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই সড়ককে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

শ্রীমঙ্গল শহরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী বলেন, “শ্রীমঙ্গলের প্রচলিত দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি এই সড়কটিও এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসছেন। তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।”

ফুলের বাহার সড়কজুড়ে

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা ও নির্ধারিত দর্শন এলাকা না থাকায় অনেক সময় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয়দের মতে, স্পিডব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্ধারিত পার্কিং এবং নিরাপদ ভিউ পয়েন্ট নির্মাণ করা হলে পর্যটকেরা আরও নিরাপদে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও গাছের পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

এক দশক আগে রোপণ করা কয়েকটি চারা আজ শ্রীমঙ্গলের পর্যটনের নতুন পরিচয় হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রীমঙ্গল–ভানুগাছ সড়ক দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


কৃষ্ণচূড়া-সোনালুর রঙে মোড়া সড়ক, পর্যটনের নতুন গন্তব্য

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক আকর্ষণ। শ্রীমঙ্গল–ভানুগাছ সড়কের দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া, জারুল, রাধাচূড়া ও সোনালু ফুলে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক করিডর। লাল, গোলাপি ও হলুদ ফুলের রঙে সেজে ওঠা সড়কটি এখন পর্যটক, আলোকচিত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্য।

বিস্তীর্ণ চা-বাগান, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, হাওর ও লেকের জন্য শ্রীমঙ্গল বরাবরই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেই পরিচিত সৌন্দর্যের সঙ্গে ফুলে ঘেরা এই সড়ক যোগ করেছে নতুন মাত্রা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সড়কের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, বাস্তবের সৌন্দর্য ছবির চেয়েও বেশি মোহময়।

এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে প্রায় এক দশক আগের একটি উদ্যোগ। একটি চা কোম্পানির উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই চারাগাছগুলো এখন বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে পুরো সড়ককে রঙিন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে।

কিশোরগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক ঝুমা ধর বলেন, “শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এই ফুলে ঘেরা সড়ক দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। অনেক ছবি ও ভিডিও তুলেছি। বাস্তবে জায়গাটি আরও বেশি সুন্দর।”

ফুলের বাহার সড়কজুড়ে

স্থানীয় বাসিন্দা আফম আব্দুল হাই ডন বলেন, “ফেসবুকে ছবি দেখে পরিবার নিয়ে এসেছি। এখানে এসে মনে হয়েছে, ছবির চেয়েও বাস্তবের সৌন্দর্য অনেক বেশি। তবে এটি ব্যস্ত সড়ক। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।”

ফুলেল এই সড়ককে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আশপাশের চায়ের দোকান, কফিশপ, ছোট হোটেল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতা বেড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই সড়ককে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

শ্রীমঙ্গল শহরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী বলেন, “শ্রীমঙ্গলের প্রচলিত দর্শনীয় স্থানগুলোর পাশাপাশি এই সড়কটিও এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসছেন। তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।”

ফুলের বাহার সড়কজুড়ে

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা ও নির্ধারিত দর্শন এলাকা না থাকায় অনেক সময় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয়দের মতে, স্পিডব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নির্ধারিত পার্কিং এবং নিরাপদ ভিউ পয়েন্ট নির্মাণ করা হলে পর্যটকেরা আরও নিরাপদে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও গাছের পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

এক দশক আগে রোপণ করা কয়েকটি চারা আজ শ্রীমঙ্গলের পর্যটনের নতুন পরিচয় হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রীমঙ্গল–ভানুগাছ সড়ক দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত