সুন্দরবন থেকে বন্য প্রাণী, বিশেষ করে নানা প্রজাতির সাপ লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে শুধু বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাঁচটি অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী ও বন বিভাগের সদস্যরা এসব সাপ উদ্ধার করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করেছেন।
সর্বশেষ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের আব্দুর রহমানের বসতবাড়ি থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার সাপটি উদ্ধার করেন। প্রায় ৬ ফুট লম্বা অজগরটির ওজন প্রায় ৭ কেজি। পরে বন বিভাগের সহযোগিতায় সাপটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।
এর আগে গতকাল শুক্রবার লোকালয় থেকে উদ্ধার করা আরেকটি অজগর সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন বনে অবমুক্ত করা হয়। বগী স্টেশন কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) কাজী তামিল রসুল জানান, ওই অজগরটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা এবং ১০ কেজি ওজনের ছিল।
বন্য প্রাণী উদ্ধারকারীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবাসস্থল ও খাদ্যসংকটের কারণে সুন্দরবনের সাপ লোকালয়ে চলে আসছে। বিশেষ করে মাছের ঘের ও হাঁস-মুরগির খোপে হানা দিচ্ছে এসব সাপ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় অজগর আস্ত ছাগল গিলে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে বন সংলগ্ন গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ফরিদ খান মিন্টু বলেন, ‘ভোলা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সুন্দরবন থেকে অজগরসহ নানা বন্য প্রাণী সহজেই লোকালয়ে চলে আসছে। আবার বলেশ্বর নদীর স্রোতে ভেসেও কিছু সাপ লোকালয়ে ঢুকছে।’ তিনি বনের ভেতরে বন্য প্রাণীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাপের আনাগোনা কিছুটা বাড়তে পারে। লোকালয়ে সাপ বা অন্য কোনো বন্য প্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন