সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পর মহাকাশে ভারতের ‘উবার’ সার্ভিস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পর মহাকাশে ভারতের ‘উবার’ সার্ভিস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা অর্জনকারী তৃতীয় দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর রকেট ‘বিক্রম-১’ সফলভাবে মহাকাশে ছয়টি পেলোড স্থাপন করেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয় ‘বিক্রম-১’। ‘মিশন আগমন’ নামের এই প্রথম অরবিটাল মিশনে উৎক্ষেপণের প্রায় ১৬ মিনিটের মাথায় রকেটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার ওপরে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে ছয়টি পেলোড সফলভাবে স্থাপন করে।

হায়দরাবাদভিত্তিক কোম্পানি স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে ভারত সরকার মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার পর দ্রুত বিকশিত হয় কোম্পানিটি। চলতি বছর এর বাজার মূল্য পৌঁছেছে এক বিলিয়ন ডলারে।

কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পবন কুমার চন্দনা বিবিসিকে বলেন, ‘আপনি বন্ধুর বাড়ি যেতে চাইলে যেমন ট্রেনের অপেক্ষায় না থেকে উবার ডাকেন, আমরা ঠিক তেমনি মহাকাশে একটি ক্যাব সার্ভিস দিচ্ছি।’ ছোট স্যাটেলাইটগুলোকে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রায় ২২ মিটার (৭২ ফুট) উঁচু বা সাততলা ভবনের সমান এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাইয়ের নামে। সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামোয় তৈরি এই রকেটে ব্যবহৃত হয়েছে থ্রিডি-প্রিন্টেড লিকুইড ইঞ্জিন। পেলোড ধারণক্ষমতা ৩৫০ কেজি।

মহাকাশের বর্জ্য অপসারণের রোবোটিক আর্ম, পৃথিবী পর্যবেক্ষণের ক্যামেরা এবং জার্মানির স্যাটেলাইট ছাড়াও ছিল প্রতীকী কিছু পেলোড। ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরার পদ্মফুল ‘কসমিক ব্লুম’, চালের দানার চেয়েও ছোট আকারে বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, এ পি জে আব্দুল কালাম ও বিক্রম সারাভাইয়ের ভাস্কর্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বন্দে মাতরম’ বার্তা পাঠানো হয়েছে মহাকাশে।

২০২০ সালে সরকার খাতটিকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ভারতে ৪০০টির বেশি স্পেস স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশীদারত্ব ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে ‘ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষার নতুন দিগন্তের উন্মোচন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্কাইরুট আগামী বছর থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরুর আগে এ বছর আরও একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পর মহাকাশে ভারতের ‘উবার’ সার্ভিস

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা অর্জনকারী তৃতীয় দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর রকেট ‘বিক্রম-১’ সফলভাবে মহাকাশে ছয়টি পেলোড স্থাপন করেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত হয় ‘বিক্রম-১’। ‘মিশন আগমন’ নামের এই প্রথম অরবিটাল মিশনে উৎক্ষেপণের প্রায় ১৬ মিনিটের মাথায় রকেটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার ওপরে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে ছয়টি পেলোড সফলভাবে স্থাপন করে।

হায়দরাবাদভিত্তিক কোম্পানি স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে ভারত সরকার মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার পর দ্রুত বিকশিত হয় কোম্পানিটি। চলতি বছর এর বাজার মূল্য পৌঁছেছে এক বিলিয়ন ডলারে।

কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পবন কুমার চন্দনা বিবিসিকে বলেন, ‘আপনি বন্ধুর বাড়ি যেতে চাইলে যেমন ট্রেনের অপেক্ষায় না থেকে উবার ডাকেন, আমরা ঠিক তেমনি মহাকাশে একটি ক্যাব সার্ভিস দিচ্ছি।’ ছোট স্যাটেলাইটগুলোকে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রায় ২২ মিটার (৭২ ফুট) উঁচু বা সাততলা ভবনের সমান এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাইয়ের নামে। সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামোয় তৈরি এই রকেটে ব্যবহৃত হয়েছে থ্রিডি-প্রিন্টেড লিকুইড ইঞ্জিন। পেলোড ধারণক্ষমতা ৩৫০ কেজি।

মহাকাশের বর্জ্য অপসারণের রোবোটিক আর্ম, পৃথিবী পর্যবেক্ষণের ক্যামেরা এবং জার্মানির স্যাটেলাইট ছাড়াও ছিল প্রতীকী কিছু পেলোড। ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরার পদ্মফুল ‘কসমিক ব্লুম’, চালের দানার চেয়েও ছোট আকারে বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, এ পি জে আব্দুল কালাম ও বিক্রম সারাভাইয়ের ভাস্কর্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বন্দে মাতরম’ বার্তা পাঠানো হয়েছে মহাকাশে।

২০২০ সালে সরকার খাতটিকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ভারতে ৪০০টির বেশি স্পেস স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অংশীদারত্ব ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে ‘ভারতের মহাকাশ আকাঙ্ক্ষার নতুন দিগন্তের উন্মোচন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্কাইরুট আগামী বছর থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরুর আগে এ বছর আরও একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত