সংবাদ

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তবুও লাখ টাকার মামলা


প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তবুও লাখ টাকার মামলা
পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করছেন রাধেশ্যাম। ছবি : সংবাদ

বরগুনার পাথরঘাটায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাধেশ্যাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকার পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করছেন।

রাধেশ্যাম কর্মকার অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার জমি বিক্রির বায়নাপত্রের কথা বলে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবির একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। যদিও ওই জমির কোনো বৈধ নথিপত্র বা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ ছিল না। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া আদালতে একটি মামলা করা হলেও তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ তাকে অব্যাহতি দেয়।

রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মানুষকে এভাবে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকার এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। অন্যদিকে, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দার এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

\

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তবুও লাখ টাকার মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরগুনার পাথরঘাটায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাধেশ্যাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকার পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করছেন।

রাধেশ্যাম কর্মকার অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার জমি বিক্রির বায়নাপত্রের কথা বলে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবির একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। যদিও ওই জমির কোনো বৈধ নথিপত্র বা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ ছিল না। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া আদালতে একটি মামলা করা হলেও তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ তাকে অব্যাহতি দেয়।

রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মানুষকে এভাবে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকার এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। অন্যদিকে, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দার এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

\


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত