গত রাতের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারটা যেন বিষাদের কালো মেঘ হয়ে ভর করেছে পুরো আর্জেন্টিনা জুড়ে। লুসাইলের সেই ক্ষত এখনও ভীষণ টাটকা, নীল-সাদা শিবিরে কান্নার রোল এখনও থামেনি। তবে ফুটবল তো থেমে থাকে না; বুকভরা হতাশা আর চোখের জল পেছনে ফেলে বুয়েনস এইরেসের আকাশে এখন নতুন এক ভোর, এক নতুন পথচলার প্রস্তুতি।
সামনে কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষী চক্র, ২০২৮ কোপা আমেরিকা আর অবধারিতভাবেই ‘মেসি-পরবর্তী’ এক নতুন আর্জেন্টিনার রূপরেখা তৈরির এক মহাব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে আলবিসেলেস্তেদের জন্য।
স্কালোনির ভবিষ্যৎ ও নতুন চক্রের হাতছানি
আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই; মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি কি থাকছেন? চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে তাঁর বর্তমান চুক্তি। এরপর তিনি আর ডাগআউটে দাঁড়াবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর নিজের।
ফলে বিশ্বকাপ-পরবর্তী আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা এখন কোচের এই সিদ্ধান্তের ওপর। তবে থেমে নেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাকা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই নতুন সূচি প্রকাশ করেছে ফিফা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের প্রথম উইন্ডোতেই দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর বছরের শেষ উইন্ডো ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরেও রয়েছে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ।
মেসিকে ছাড়াই কি ২০২৮ কোপা আমেরিকা?
সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গাটি তৈরি হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই আসরটি আয়োজনের জোর আলোচনা চলছে। আর তেমনটি হলে, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম বারের মতো জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়াই কোনো বড় টুর্নামেন্টে মাঠে নামতে হতে পারে আর্জেন্টিনাকে। সেই শূন্যতা পূরণের কঠিন পরীক্ষা এখন থেকেই শুরু।
অন্যদিকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। আয়োজক হিসেবে সরাসরি টিকিট পেলেও তারা লড়বে লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্বে। কারণ প্যারাগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানিয়েছেন, “কনমেবল ও উয়েফার যৌথ উদ্যোগে নেশনস লিগের আদলে নতুন একটি প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা চলছে।”
তাই ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাছাইপর্বে অংশ নিতেই হচ্ছে তাদের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাতার ভেন্যু বাতিল হওয়ায় কোপা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের ‘ফিনালিসিমা’র ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
বিমানের অপেক্ষায় বুয়েনস এইরেস: বীরদের বরণে প্রস্তুত দেশ
ফাইনালের ট্র্যাজেডির পরও বীরদের ভুলে যায়নি আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। খেলোয়াড়দের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “খেলোয়াড়দের অনেক অনেক ধন্যবাদ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বীরের মতো লড়েছো। আর্জেন্টিনা সবসময় শীর্ষেই থাকবে।”
শুধু তাই নয়, বীরদের বরণে দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণার আভাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আর্জেন্টিনা দলের অর্জিত সাফল্য উদযাপনের বিষয়ে মানুষের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে আমি জনগণকে জানাচ্ছি; খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা উদযাপনের জন্য যে দিনটি বেছে নেবেন, সেই দিনটিকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।”
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দলের একটা অংশ আজ সোমবার বিকেলে বুয়েনস এইরেসে এসে পৌঁছাবে, বাকিরা সরাসরি ক্লাব বা ছুটিতে চলে গেছেন।
রানার্স-আপ হওয়ার পর রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভীর জীবনবোধের কথা টেনে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেন, “এই দলটির কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য এই মুহূর্তটি নিশ্চিতভাবেই খুব কঠিন, তবে সব স্তিমিত হয়ে এলে তারা বুঝতে পারবে যে তারা যা অর্জন করেছে তা সত্যিই বিশাল।”
কাপ না পাওয়ার বেদনা হয়তো থাকবে, কিন্তু এই কান্না মুছেই আবারও বিশ্বজয়ের নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে ম্যারাডোনা-মেসির দেশ।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
গত রাতের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারটা যেন বিষাদের কালো মেঘ হয়ে ভর করেছে পুরো আর্জেন্টিনা জুড়ে। লুসাইলের সেই ক্ষত এখনও ভীষণ টাটকা, নীল-সাদা শিবিরে কান্নার রোল এখনও থামেনি। তবে ফুটবল তো থেমে থাকে না; বুকভরা হতাশা আর চোখের জল পেছনে ফেলে বুয়েনস এইরেসের আকাশে এখন নতুন এক ভোর, এক নতুন পথচলার প্রস্তুতি।
সামনে কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষী চক্র, ২০২৮ কোপা আমেরিকা আর অবধারিতভাবেই ‘মেসি-পরবর্তী’ এক নতুন আর্জেন্টিনার রূপরেখা তৈরির এক মহাব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে আলবিসেলেস্তেদের জন্য।
স্কালোনির ভবিষ্যৎ ও নতুন চক্রের হাতছানি
আর্জেন্টাইন ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই; মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি কি থাকছেন? চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে তাঁর বর্তমান চুক্তি। এরপর তিনি আর ডাগআউটে দাঁড়াবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর নিজের।
ফলে বিশ্বকাপ-পরবর্তী আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা এখন কোচের এই সিদ্ধান্তের ওপর। তবে থেমে নেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাকা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই নতুন সূচি প্রকাশ করেছে ফিফা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের প্রথম উইন্ডোতেই দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর বছরের শেষ উইন্ডো ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরেও রয়েছে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ।
মেসিকে ছাড়াই কি ২০২৮ কোপা আমেরিকা?
সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গাটি তৈরি হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই আসরটি আয়োজনের জোর আলোচনা চলছে। আর তেমনটি হলে, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম বারের মতো জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়াই কোনো বড় টুর্নামেন্টে মাঠে নামতে হতে পারে আর্জেন্টিনাকে। সেই শূন্যতা পূরণের কঠিন পরীক্ষা এখন থেকেই শুরু।
অন্যদিকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। আয়োজক হিসেবে সরাসরি টিকিট পেলেও তারা লড়বে লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্বে। কারণ প্যারাগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রবার্ট হ্যারিসন জানিয়েছেন, “কনমেবল ও উয়েফার যৌথ উদ্যোগে নেশনস লিগের আদলে নতুন একটি প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা চলছে।”
তাই ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাছাইপর্বে অংশ নিতেই হচ্ছে তাদের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাতার ভেন্যু বাতিল হওয়ায় কোপা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের ‘ফিনালিসিমা’র ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
বিমানের অপেক্ষায় বুয়েনস এইরেস: বীরদের বরণে প্রস্তুত দেশ
ফাইনালের ট্র্যাজেডির পরও বীরদের ভুলে যায়নি আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। খেলোয়াড়দের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “খেলোয়াড়দের অনেক অনেক ধন্যবাদ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বীরের মতো লড়েছো। আর্জেন্টিনা সবসময় শীর্ষেই থাকবে।”
শুধু তাই নয়, বীরদের বরণে দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণার আভাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আর্জেন্টিনা দলের অর্জিত সাফল্য উদযাপনের বিষয়ে মানুষের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে আমি জনগণকে জানাচ্ছি; খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা উদযাপনের জন্য যে দিনটি বেছে নেবেন, সেই দিনটিকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।”
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দলের একটা অংশ আজ সোমবার বিকেলে বুয়েনস এইরেসে এসে পৌঁছাবে, বাকিরা সরাসরি ক্লাব বা ছুটিতে চলে গেছেন।
রানার্স-আপ হওয়ার পর রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভীর জীবনবোধের কথা টেনে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেন, “এই দলটির কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য এই মুহূর্তটি নিশ্চিতভাবেই খুব কঠিন, তবে সব স্তিমিত হয়ে এলে তারা বুঝতে পারবে যে তারা যা অর্জন করেছে তা সত্যিই বিশাল।”
কাপ না পাওয়ার বেদনা হয়তো থাকবে, কিন্তু এই কান্না মুছেই আবারও বিশ্বজয়ের নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে ম্যারাডোনা-মেসির দেশ।

আপনার মতামত লিখুন