সংবাদ

ফাইনালের যত রেকর্ড


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

ফাইনালের যত রেকর্ড

ফুটবল বিধাতা যেন এক চরম নাটকীয়তার স্ক্রিপ্ট লিখে রেখেছিলেন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জন্য। ৪৮টি দল, দীর্ঘ ৩৯ দিনের লড়াই আর ১০৪টি ম্যাচের রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে পর্দা নামল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ, ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম সংস্করণের।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের দমবন্ধ করা লড়াইয়ে যখন কোনো পক্ষই জাল খুঁজে পায়নি, তখন ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও টানটান উত্তেজনা। অবশেষে ম্যাচের ১০৬তম মিনিট। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা। ঠিক তখনই বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের সেই জাদুকরী শট, যা বোকা বানিয়ে দিল আর্জেন্টিনার দুর্গ রক্ষা করা এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে।

পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে তখন স্প্যানিশ লাল সমুদ্রের গর্জন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর, ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরল স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল স্প্যানিশরা।

অজেয় ডিফেন্সের দুর্গ ও একবিংশ শতাব্দীর সেরা রক্ষণভাগ

এবারের বিশ্বকাপে স্পেন যে ফুটবল শৈলী দেখিয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসে রূপকথা হিসেবে টিকে থাকবে। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে যেভাবে তারা বোতলবন্দী করে রেখেছিল, তার প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানে। আসরের মোট ৭টি ম্যাচে কোনো গোলই হজম করেনি স্পেন, যা একক টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড।

এর চেয়েও বড় বিস্ময় হলো, গোটা বিশ্বকাপে স্প্যানিশ রক্ষণভেদ করে বল জালে জড়িয়েছে মাত্র একবার! যেকোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ক্ষেত্রে এটিই ইতিহাসের সর্বনিম্ন গোল হজমের রেকর্ড।

১৯৯৬ সালের পর স্পেনের এই রক্ষণভাগকে বলা হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এই বিশ্বজয়ের মাধ্যমে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে ইতালির প্রাচীন রেকর্ড ভেঙে দিল দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

একই সাথে ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে একই সময়ে বর্তমান ইউরো ও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করল তারা।

তারুণ্যের জয়গান এবং বুড়ো কোচের নতুন ইতিহাস

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালটি ছিল মূলত দুই প্রজন্মের এক মেলবন্ধন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া দুই দলের এমন দুজন খেলোয়াড় শুরুর একাদশে ছিলেন, যাদের বয়সের ব্যবধান ২০ বছরেরও বেশি!

একপাশে ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সী জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, আর অন্যপাশে স্পেনের বিস্ময় বালক, মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সী লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বজয়ের পর ইয়ামাল ইতিহাসের চতুর্থ কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন, যিনি একই সাথে ইউরো ও বিশ্বকাপের স্বাদ পেলেন এত অল্প বয়সে।

মাঝমাঠে ১২১টি নিখুঁত পাস দিয়ে মাঝমাঠ শাসন করা পাউ কুবারসি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার।

তরুণদের এই উৎসবের পেছনের কারিগর ছিলেন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর ২৯ দিন বয়সী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে ট্রফি জেতার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।

মেসির ট্র্যাজিক প্রস্থান, প্রাচীর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ফাইনালে পোড়া কপাল

একপাশে যখন স্পেনের আনন্দের জোয়ার, অন্যপাশে তখন নীল-সাদা শিবিরে কেবলই কান্নার রোল। কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি ধরে রাখার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসি মাঠে নেমেছিলেন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরুর একাদশে থাকা ও অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড নিয়ে। কিন্তু ভাগ্য এবার সহায় ছিল না আলবিসেলেস্তেদের।

গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ফাইনালে লক্ষ্যে একটিও শট না রাখার লজ্জাজনক নজির গড়ল আর্জেন্টিনা। অথচ আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফাইনালের মঞ্চে একাই ১১টি চোখ ধাঁধানো সেভ করে গত ৬০ বছরের রেকর্ড ভাঙেন তিনি, কিন্তু তার সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সও দলকে বাঁচাতে পারেনি।

ম্যাচের শেষলগ্নে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, যা আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।

সব মিলিয়ে শেষ চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালের তিনটিতেই রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে, আর সেই সাথে ভাঙল তাদের টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অপরাজেয় রেকর্ড।

ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় রদ্রি ও এমবাপের দাপট

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেনের রাজত্ব ছিল স্পষ্ট। স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ বগলদাবা করেছেন মিডফিল্ডার রদ্রি।

১৯৯৪ সালে রোমারিওর পর দীর্ঘ ৩২ বছরে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলেন তিনি।

অন্যদিকে স্পেনের গোলপোস্টের প্রহরী উনাই সিমন পেয়েছেন সেরা গোলরক্ষকের ‘গোল্ডেন গ্লাভস’।

তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। ২০২২ সালের পর ২০২৬; টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

হাফটাইমের দীর্ঘ বিরতি ও একটি ঐতিহাসিক মহাযুদ্ধের অবসান

এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল মাঠের ফুটবল দিয়ে নয়, মাঠের বাইরের এক ঘটনার জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাধারণত ফুটবল ম্যাচের প্রথমার্ধের পর ১৫ মিনিটের বিরতি থাকলেও, আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জমকালো কনসার্ট ও বিনোদনের কারণে বিরতির সময় স্থায়ী হয়েছিল রেকর্ড ২৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন দ্বিতীয়র্ধ শুরু হয়, তখন দুই দলের রণকৌশলে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধে জয় হয় স্পেনের টিকিটাকার। ফেরান তোরেসের সেই ১০৬ মিনিটের গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের দ্বিতীয় নক্ষত্র।

ফুটবল বিধাতা যেন স্পেনের অদম্য ইচ্ছা আর নির্ভীক ফুটবলেরই পুরস্কার দিলেন। বিজয়ের উল্লাসে যখন মাতোয়ারা মাদ্রিদ থেকে বার্সেলোনা, তখন বুয়েনস আইরেসে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

এভাবেই শেষ হলো ২০২৬ সালের বিশ্বফুটবলের মহারথীদের মহাযুদ্ধ, যা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবে যুগের পর যুগ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


ফাইনালের যত রেকর্ড

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফুটবল বিধাতা যেন এক চরম নাটকীয়তার স্ক্রিপ্ট লিখে রেখেছিলেন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জন্য। ৪৮টি দল, দীর্ঘ ৩৯ দিনের লড়াই আর ১০৪টি ম্যাচের রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে পর্দা নামল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ, ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম সংস্করণের।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের দমবন্ধ করা লড়াইয়ে যখন কোনো পক্ষই জাল খুঁজে পায়নি, তখন ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও টানটান উত্তেজনা। অবশেষে ম্যাচের ১০৬তম মিনিট। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা। ঠিক তখনই বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের সেই জাদুকরী শট, যা বোকা বানিয়ে দিল আর্জেন্টিনার দুর্গ রক্ষা করা এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে।

পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে তখন স্প্যানিশ লাল সমুদ্রের গর্জন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর, ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরল স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল স্প্যানিশরা।

অজেয় ডিফেন্সের দুর্গ ও একবিংশ শতাব্দীর সেরা রক্ষণভাগ

এবারের বিশ্বকাপে স্পেন যে ফুটবল শৈলী দেখিয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসে রূপকথা হিসেবে টিকে থাকবে। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে যেভাবে তারা বোতলবন্দী করে রেখেছিল, তার প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানে। আসরের মোট ৭টি ম্যাচে কোনো গোলই হজম করেনি স্পেন, যা একক টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের বিশ্ব রেকর্ড।

এর চেয়েও বড় বিস্ময় হলো, গোটা বিশ্বকাপে স্প্যানিশ রক্ষণভেদ করে বল জালে জড়িয়েছে মাত্র একবার! যেকোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ক্ষেত্রে এটিই ইতিহাসের সর্বনিম্ন গোল হজমের রেকর্ড।

১৯৯৬ সালের পর স্পেনের এই রক্ষণভাগকে বলা হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এই বিশ্বজয়ের মাধ্যমে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে ইতালির প্রাচীন রেকর্ড ভেঙে দিল দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

একই সাথে ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে একই সময়ে বর্তমান ইউরো ও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করল তারা।

তারুণ্যের জয়গান এবং বুড়ো কোচের নতুন ইতিহাস

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালটি ছিল মূলত দুই প্রজন্মের এক মেলবন্ধন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া দুই দলের এমন দুজন খেলোয়াড় শুরুর একাদশে ছিলেন, যাদের বয়সের ব্যবধান ২০ বছরেরও বেশি!

একপাশে ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সী জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, আর অন্যপাশে স্পেনের বিস্ময় বালক, মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সী লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বজয়ের পর ইয়ামাল ইতিহাসের চতুর্থ কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন, যিনি একই সাথে ইউরো ও বিশ্বকাপের স্বাদ পেলেন এত অল্প বয়সে।

মাঝমাঠে ১২১টি নিখুঁত পাস দিয়ে মাঝমাঠ শাসন করা পাউ কুবারসি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার।

তরুণদের এই উৎসবের পেছনের কারিগর ছিলেন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর ২৯ দিন বয়সী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে ট্রফি জেতার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি।

মেসির ট্র্যাজিক প্রস্থান, প্রাচীর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ফাইনালে পোড়া কপাল

একপাশে যখন স্পেনের আনন্দের জোয়ার, অন্যপাশে তখন নীল-সাদা শিবিরে কেবলই কান্নার রোল। কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি ধরে রাখার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসি মাঠে নেমেছিলেন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩টি বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরুর একাদশে থাকা ও অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড নিয়ে। কিন্তু ভাগ্য এবার সহায় ছিল না আলবিসেলেস্তেদের।

গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ফাইনালে লক্ষ্যে একটিও শট না রাখার লজ্জাজনক নজির গড়ল আর্জেন্টিনা। অথচ আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফাইনালের মঞ্চে একাই ১১টি চোখ ধাঁধানো সেভ করে গত ৬০ বছরের রেকর্ড ভাঙেন তিনি, কিন্তু তার সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সও দলকে বাঁচাতে পারেনি।

ম্যাচের শেষলগ্নে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, যা আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়।

সব মিলিয়ে শেষ চারটি বিশ্বকাপ ফাইনালের তিনটিতেই রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্জেন্টিনাকে, আর সেই সাথে ভাঙল তাদের টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অপরাজেয় রেকর্ড।

ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় রদ্রি ও এমবাপের দাপট

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেনের রাজত্ব ছিল স্পষ্ট। স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ বগলদাবা করেছেন মিডফিল্ডার রদ্রি।

১৯৯৪ সালে রোমারিওর পর দীর্ঘ ৩২ বছরে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলেন তিনি।

অন্যদিকে স্পেনের গোলপোস্টের প্রহরী উনাই সিমন পেয়েছেন সেরা গোলরক্ষকের ‘গোল্ডেন গ্লাভস’।

তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। ২০২২ সালের পর ২০২৬; টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

হাফটাইমের দীর্ঘ বিরতি ও একটি ঐতিহাসিক মহাযুদ্ধের অবসান

এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল মাঠের ফুটবল দিয়ে নয়, মাঠের বাইরের এক ঘটনার জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাধারণত ফুটবল ম্যাচের প্রথমার্ধের পর ১৫ মিনিটের বিরতি থাকলেও, আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে জমকালো কনসার্ট ও বিনোদনের কারণে বিরতির সময় স্থায়ী হয়েছিল রেকর্ড ২৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ড।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন দ্বিতীয়র্ধ শুরু হয়, তখন দুই দলের রণকৌশলে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধে জয় হয় স্পেনের টিকিটাকার। ফেরান তোরেসের সেই ১০৬ মিনিটের গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের দ্বিতীয় নক্ষত্র।

ফুটবল বিধাতা যেন স্পেনের অদম্য ইচ্ছা আর নির্ভীক ফুটবলেরই পুরস্কার দিলেন। বিজয়ের উল্লাসে যখন মাতোয়ারা মাদ্রিদ থেকে বার্সেলোনা, তখন বুয়েনস আইরেসে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

এভাবেই শেষ হলো ২০২৬ সালের বিশ্বফুটবলের মহারথীদের মহাযুদ্ধ, যা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবে যুগের পর যুগ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত