সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এনজিওগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান

সৌরবিদ্যুৎ: পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াটের পরিকল্পনা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

সৌরবিদ্যুৎ: পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াটের পরিকল্পনা

বর্তমান সরকার তাদের মেয়াদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো। পাশপাশি বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পকেও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় সরকারের এ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। ৫ কোটি ৩৯ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদার যোগান দিতে গত ২০ মে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৬২৯ মেগাওয়াট। এরমধ্যে অন-গ্রিড ও অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসছে ১৩৩৫ মেগাওয়াটের মতো। এরমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সৌরবিদ্যুৎ ৯৯৭ মেগাওয়াট।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করছি, আমাদের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। ১০ হাজার মেগাওয়াট করলে আমার আমদানিনির্ভর এনার্জির প্রয়োজন কমবে এবং যে উদ্বৃত্ত টাকাটা হবে, সেটা আমরা অন্য উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করতে পারব।”

ছাদে সোলার

গ্রামের বাড়ির ছাদে গুচ্ছভিত্তিক সৌরপ্যানেল স্থাপন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি, সৌরচালিত সেচ ও বায়োগ্যাস প্রকল্পকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে এনজিওর বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি বলেন, “এনজিওগুলো গুচ্ছভিত্তিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের অর্থও ফিরে আসবে। বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলাদেশে আপনারা যদি গ্রামের চালের উপর সোলার দেন এবং মাস শেষে নেট মিটার দিয়ে পয়সা আদায় করে নিতে পারেন, তাহলে গ্রামের কভারেজটা বেড়ে যাবে।”

এ ধরণের প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “প্রকল্পে অর্থায়নের সংকট হবে না।”

এনজিও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চাইলে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

সোলারে ইজিবাইক

সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস প্রকল্প স্থাপন করে উপকারভোগী হতে পারে, এমন উদাহরণ বক্তব্যে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ছোট সৌর প্যানেল দিয়ে ইজিবাইক চালাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “একটি ছোট সৌর প্যানেল ও পুরনো দুটি ব্যাটারি ব্যবহার করে দিনে একটি চার্জ দিয়ে অন্যটি দিয়ে তিনি ইজিবাইক চালান। আমাদের মানুষের মধ্যে চিন্তা আছে।”

কৃষি সেচের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “যেভাবে গভীর নলকূপের মালিকরা কৃষকদের কাছে সেচের পানি বিক্রি করেন, একইভাবে সৌরচালিত সেচপাম্পও লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।”

বায়োগ্যাসে রান্না

বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পেরও সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী ফরিদপুরের এক নারীর উদাহরণ দেন। ইকবাল হাসান বলেন, “ওই নারী গবাদিপশুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে নিজের পাশাপাশি আশপাশের বাড়িতেও রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছেন।”

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিতে ২০০ কোটি ডলার বা দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এটা যেকোনো দেশের রিজার্ভের ওপর বিরাট চাপ।” মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এ কারণেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।”

মন্ত্রী বলেন, “দেশে গ্যাসের চাপ রোজ কমছে, আর চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়ছে। আমরা সাবসিডি দিচ্ছি। হাজার হাজার কোটি টাকা সাবসিডি দিচ্ছি। আমাদের মতো দেশের জন্য এটা দীর্ঘদিন বহন করা কঠিন।”

সমুদ্রসীমা অর্জন

গত ১৭ বছরে সমুদ্রসীমা অর্জন উদযাপন করা হলেও সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগানো যায়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে, আর বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে।”

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিতে সরকারের দেওয়া কর-শুল্কসুবিধার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ খাতে ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। আপনারা টাকা নেন, টাকা নিয়ে ব্যবসা করেন, ব্যবসা করে টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কনসেশনাল রেটে টাকা পাবেন।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


সৌরবিদ্যুৎ: পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াটের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

বর্তমান সরকার তাদের মেয়াদে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। লক্ষ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো। পাশপাশি বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পকেও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ভয়েস অব ডেভেলপমেন্ট: ব্রিজিং ডায়ালগস, পলিসিজ অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় সরকারের এ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। ৫ কোটি ৩৯ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদার যোগান দিতে গত ২০ মে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৬২৯ মেগাওয়াট। এরমধ্যে অন-গ্রিড ও অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসছে ১৩৩৫ মেগাওয়াটের মতো। এরমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সৌরবিদ্যুৎ ৯৯৭ মেগাওয়াট।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করছি, আমাদের মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট করব। ১০ হাজার মেগাওয়াট করলে আমার আমদানিনির্ভর এনার্জির প্রয়োজন কমবে এবং যে উদ্বৃত্ত টাকাটা হবে, সেটা আমরা অন্য উন্নয়ন খাতে ব্যবহার করতে পারব।”

ছাদে সোলার

গ্রামের বাড়ির ছাদে গুচ্ছভিত্তিক সৌরপ্যানেল স্থাপন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি, সৌরচালিত সেচ ও বায়োগ্যাস প্রকল্পকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনে এনজিওর বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি বলেন, “এনজিওগুলো গুচ্ছভিত্তিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের অর্থও ফিরে আসবে। বিশেষ করে গ্রামীণ বাংলাদেশে আপনারা যদি গ্রামের চালের উপর সোলার দেন এবং মাস শেষে নেট মিটার দিয়ে পয়সা আদায় করে নিতে পারেন, তাহলে গ্রামের কভারেজটা বেড়ে যাবে।”

এ ধরণের প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “প্রকল্পে অর্থায়নের সংকট হবে না।”

এনজিও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনই জ্বালানি সংকট মোকাবেলায়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চাইলে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

সোলারে ইজিবাইক

সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাস প্রকল্প স্থাপন করে উপকারভোগী হতে পারে, এমন উদাহরণ বক্তব্যে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ছোট সৌর প্যানেল দিয়ে ইজিবাইক চালাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “একটি ছোট সৌর প্যানেল ও পুরনো দুটি ব্যাটারি ব্যবহার করে দিনে একটি চার্জ দিয়ে অন্যটি দিয়ে তিনি ইজিবাইক চালান। আমাদের মানুষের মধ্যে চিন্তা আছে।”

কৃষি সেচের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “যেভাবে গভীর নলকূপের মালিকরা কৃষকদের কাছে সেচের পানি বিক্রি করেন, একইভাবে সৌরচালিত সেচপাম্পও লাভজনক ব্যবসা হতে পারে।”

বায়োগ্যাসে রান্না

বায়োগ্যাসভিত্তিক প্রকল্পেরও সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী ফরিদপুরের এক নারীর উদাহরণ দেন। ইকবাল হাসান বলেন, “ওই নারী গবাদিপশুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে নিজের পাশাপাশি আশপাশের বাড়িতেও রান্নার গ্যাস সরবরাহ করছেন।”

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই মাসে পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানি আমদানিতে ২০০ কোটি ডলার বা দুই বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এটা যেকোনো দেশের রিজার্ভের ওপর বিরাট চাপ।” মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এ কারণেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।”

মন্ত্রী বলেন, “দেশে গ্যাসের চাপ রোজ কমছে, আর চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়ছে। আমরা সাবসিডি দিচ্ছি। হাজার হাজার কোটি টাকা সাবসিডি দিচ্ছি। আমাদের মতো দেশের জন্য এটা দীর্ঘদিন বহন করা কঠিন।”

সমুদ্রসীমা অর্জন

গত ১৭ বছরে সমুদ্রসীমা অর্জন উদযাপন করা হলেও সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগানো যায়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে, আর বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে।”

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিতে সরকারের দেওয়া কর-শুল্কসুবিধার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ খাতে ব্যবসাভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। আপনারা টাকা নেন, টাকা নিয়ে ব্যবসা করেন, ব্যবসা করে টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কনসেশনাল রেটে টাকা পাবেন।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত