পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলজিইডির দেওয়া প্রত্যয়নপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সামান্য প্লাস্টার, চুনকাম এবং কয়েকটি বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহ করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দোকান থেকে ভুয়া রসিদ সংগ্রহ করে বিল প্রস্তুত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অর্থ উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৭১ নম্বর বিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ৬ জোড়া বেঞ্চ, একটি ফ্যান ও সামান্য রঙের কাজ হয়েছে। একই চিত্র জগন্নাথকাঠি, বাটনতলা ও ২১ নম্বর স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। অন্যদিকে, ১৩৯ নম্বর দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি। অথচ ওই বিদ্যালয়ের বিলও জমা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেন, পুরোনো ভবনের বদলে নতুন ভবনে কাজ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজের মান যাচাই করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন এখনো দেওয়া হয়নি।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল হোসেন জানান, এলজিইডির প্রত্যয়ন পাওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়। তবে দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি বিদ্যালয়ের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
\

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিপরীতে নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলজিইডির দেওয়া প্রত্যয়নপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সামান্য প্লাস্টার, চুনকাম এবং কয়েকটি বেঞ্চ ও ফ্যান সরবরাহ করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দোকান থেকে ভুয়া রসিদ সংগ্রহ করে বিল প্রস্তুত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অর্থ উত্তোলনের পাঁয়তারা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৭১ নম্বর বিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ৬ জোড়া বেঞ্চ, একটি ফ্যান ও সামান্য রঙের কাজ হয়েছে। একই চিত্র জগন্নাথকাঠি, বাটনতলা ও ২১ নম্বর স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। অন্যদিকে, ১৩৯ নম্বর দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি। অথচ ওই বিদ্যালয়ের বিলও জমা দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেন, পুরোনো ভবনের বদলে নতুন ভবনে কাজ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজের মান যাচাই করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন এখনো দেওয়া হয়নি।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল হোসেন জানান, এলজিইডির প্রত্যয়ন পাওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হয়। তবে দক্ষিণ করফা গয়েশকাঠি বিদ্যালয়ের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
\

আপনার মতামত লিখুন