মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় বিপন্ন প্রজাতির একটি মুখপোড়া হনুমান (Capped Leaf Monkey) মারা গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ভানুগাছ–শ্রীমঙ্গল সড়কের মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বন্য প্রাণীর আলোকচিত্রী কাজল হাজরা মোটরসাইকেলে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে হনুমানটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বিট অফিসের বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মৃত হনুমানটি উদ্ধার করেন। পরে সেটি জানকিছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বন্য প্রাণীপ্রেমীদের অভিযোগ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়ক ও রেলপথে বন্য প্রাণীর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক চালক নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুধু সড়কপথ নয়, উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথেও বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মুখপোড়া হনুমান বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বিপন্ন বন্য প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) রেড লিস্ট বা লাল তালিকায় এ প্রজাতিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বনভূমি সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে এই প্রজাতিটি এমনিতেই হুমকির মুখে, তার ওপর এমন দুর্ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বন্য প্রাণীপ্রেমীরা বলছেন, লাউয়াছড়ার মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলের ভেতর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। শুধু মৃত প্রাণী উদ্ধার করাই সমাধান নয়, বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
\

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় বিপন্ন প্রজাতির একটি মুখপোড়া হনুমান (Capped Leaf Monkey) মারা গেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ভানুগাছ–শ্রীমঙ্গল সড়কের মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বন্য প্রাণীর আলোকচিত্রী কাজল হাজরা মোটরসাইকেলে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে হনুমানটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বিট অফিসের বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মৃত হনুমানটি উদ্ধার করেন। পরে সেটি জানকিছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বন্য প্রাণীপ্রেমীদের অভিযোগ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়ক ও রেলপথে বন্য প্রাণীর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক চালক নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শুধু সড়কপথ নয়, উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথেও বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বন্য প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মুখপোড়া হনুমান বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বিপন্ন বন্য প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) রেড লিস্ট বা লাল তালিকায় এ প্রজাতিটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বনভূমি সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে এই প্রজাতিটি এমনিতেই হুমকির মুখে, তার ওপর এমন দুর্ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বন্য প্রাণীপ্রেমীরা বলছেন, লাউয়াছড়ার মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলের ভেতর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। শুধু মৃত প্রাণী উদ্ধার করাই সমাধান নয়, বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
\

আপনার মতামত লিখুন