সংবাদ

শূন্য বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, আলোচনায় যেসব নেতা


মহসীন ইসলাম টুটুল
মহসীন ইসলাম টুটুল
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

শূন্য বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, আলোচনায় যেসব নেতা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. মঈন খান

অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

যদিও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি আমলা ও বুদ্ধিজীবীদের নামও উঠে আসছে।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশ থেকে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আলোচনায় যারা

বিএনপি ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তত চার থেকে পাঁচজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের দীর্ঘ সংসদীয় ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও উচ্চশিক্ষিত পটভূমি তাকে বিবেচনায় রেখেছে।

রাজনীতিকদের বাইরে প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। পেশাদার আমলা হিসেবে তার দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা তাকে সম্ভাব্য তালিকার সামনের সারিতে রেখেছে।

অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর নামও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনায় থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে একাধিক নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।’

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গভবনের দায়িত্ব সামলাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার মাথায় শেষ পর্যন্ত মুকুট উঠছে, তা জানতে এখন দেশবাসীর দৃষ্টি সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


শূন্য বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, আলোচনায় যেসব নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

যদিও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি আমলা ও বুদ্ধিজীবীদের নামও উঠে আসছে।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশ থেকে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আলোচনায় যারা

বিএনপি ও সরকারি বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তত চার থেকে পাঁচজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের দীর্ঘ সংসদীয় ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও উচ্চশিক্ষিত পটভূমি তাকে বিবেচনায় রেখেছে।

রাজনীতিকদের বাইরে প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। পেশাদার আমলা হিসেবে তার দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা তাকে সম্ভাব্য তালিকার সামনের সারিতে রেখেছে।

অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর নামও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিবেচনায় থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে একাধিক নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।’

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গভবনের দায়িত্ব সামলাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার মাথায় শেষ পর্যন্ত মুকুট উঠছে, তা জানতে এখন দেশবাসীর দৃষ্টি সংসদীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত