সংবাদ

বগুড়ায় চশমা পরা নিয়ে বিবাদে কিশোর নিহত


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

বগুড়ায় চশমা পরা নিয়ে বিবাদে কিশোর নিহত
সোনাতলা থানা। ছবি : সংগৃহীত

অনুমতি না নিয়ে মামাতো বোনের চশমা চোখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভগ্নিপতিদের বেধড়ক মারধরে রাকিব বাবু (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মহেষপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের ফুল বাবুর একমাত্র ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবের বোনের বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে স্বজনেরা দাওয়াত খেতে এসেছিলেন। বুধবার দুপুরে রাকিব তার মামাতো বোন আশার চশমাটি অনুমতি ছাড়া চোখে দেয়। এ নিয়ে আশার স্বামী তাকে ‘চোর’ আখ্যা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বিকেলে মামাতো বোনের স্বামী পাভেল, তৌহিদুল, রিফাত ও খালাতো বোনের স্বামী হেলালসহ ৪-৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালায়। তারা রাকিবের মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

গুরুতর জখম অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে রাকিব তার স্বজনদের উদ্দেশে বলেছিল, “ওরা আমাকে যেভাবে পিটিয়েছে, আমি আর বাঁচব না। তোরা আমার শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলোর ভিডিও করে রাখিস, ভবিষ্যতে বাবার কাজে লাগবে।” পরে স্বজনেরা তার আঘাতের চিহ্নের ভিডিও করে রাখেন।

রাকিবের বাবা ফুল বাবু অভিযোগ করেন, তার একমাত্র সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন আসামিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। রাকিবকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন তার মা না ঠেকিয়ে উল্টো মারতে উৎসাহিত করেছিলেন।” তিনি আরও জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে বাদী করে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত হেলালের স্ত্রী মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে দাবি করেন, সামান্য চড়-থাপ্পড় দেওয়ায় অভিমানে রাকিব হয়তো গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সোনাতলা থানা-পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতের বাবা ও স্বজনেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


বগুড়ায় চশমা পরা নিয়ে বিবাদে কিশোর নিহত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

অনুমতি না নিয়ে মামাতো বোনের চশমা চোখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভগ্নিপতিদের বেধড়ক মারধরে রাকিব বাবু (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মহেষপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাকিব গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের ফুল বাবুর একমাত্র ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবের বোনের বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে স্বজনেরা দাওয়াত খেতে এসেছিলেন। বুধবার দুপুরে রাকিব তার মামাতো বোন আশার চশমাটি অনুমতি ছাড়া চোখে দেয়। এ নিয়ে আশার স্বামী তাকে ‘চোর’ আখ্যা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বিকেলে মামাতো বোনের স্বামী পাভেল, তৌহিদুল, রিফাত ও খালাতো বোনের স্বামী হেলালসহ ৪-৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালায়। তারা রাকিবের মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

গুরুতর জখম অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে রাকিব তার স্বজনদের উদ্দেশে বলেছিল, “ওরা আমাকে যেভাবে পিটিয়েছে, আমি আর বাঁচব না। তোরা আমার শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলোর ভিডিও করে রাখিস, ভবিষ্যতে বাবার কাজে লাগবে।” পরে স্বজনেরা তার আঘাতের চিহ্নের ভিডিও করে রাখেন।

রাকিবের বাবা ফুল বাবু অভিযোগ করেন, তার একমাত্র সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন আসামিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। রাকিবকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন তার মা না ঠেকিয়ে উল্টো মারতে উৎসাহিত করেছিলেন।” তিনি আরও জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে বাদী করে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত হেলালের স্ত্রী মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে দাবি করেন, সামান্য চড়-থাপ্পড় দেওয়ায় অভিমানে রাকিব হয়তো গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সোনাতলা থানা-পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতের বাবা ও স্বজনেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত