কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলমগ্ন পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত কলেজের ৭ জন শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে। এদের নতুন কর্মস্থল কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ন থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।
এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার দায় শুধু শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে ৭ জনকে বদলি করার বিষয়টি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলি হওয়া একাধিক শিক্ষক জানান, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। ২/৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই নগরী প্লাবিত হয়ে যায়। তাহলে কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার দায় কি শুধু শিক্ষকদের?
তারা বলেন, পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে পরীক্ষা চলবে কি না- এমন সিদ্ধান্ত বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে দিয়েছিলেন। পরীক্ষা চলবে না, বন্ধ হবে-এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এককভাবে দিতে পারেন না।
শিক্ষকরা আরও বলেন, ‘এখনো পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাই এই সময়ে একসঙ্গে কলেজের ৭ সিনিয়র শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত অমানবিক এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জটিলতা তৈরি হবে।’
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম বলেন, ‘আমি বুধবার (২২ জুলাই) এ কলেজে যোগদান করেছি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে এ পরীক্ষাকেন্দ্রে আর যাতে জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বদলির আদেশে তো পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা কিংবা কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এমন বদলি সব সময়ই হয়ে থাকে। এ বদলির সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি জড়িত কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না।’
গত ১৮ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এ সময় তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তিনি সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে এই কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ওই সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু ছোট নৌকা ও ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকেরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নিয়ে যান কেন্দ্রে। তখন কেউ কেউ পানি মাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কুমিল্লাসহ সারা দেশে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। এই কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে সমালোচনার মুখে কেন্দ্র স্থানান্তরের পর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নগরীর ছাতিপট্টি এলাকায় ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলমগ্ন পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত কলেজের ৭ জন শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে। এদের নতুন কর্মস্থল কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ন থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।
এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার দায় শুধু শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে ৭ জনকে বদলি করার বিষয়টি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলি হওয়া একাধিক শিক্ষক জানান, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। ২/৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই নগরী প্লাবিত হয়ে যায়। তাহলে কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার দায় কি শুধু শিক্ষকদের?
তারা বলেন, পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে পরীক্ষা চলবে কি না- এমন সিদ্ধান্ত বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে দিয়েছিলেন। পরীক্ষা চলবে না, বন্ধ হবে-এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এককভাবে দিতে পারেন না।
শিক্ষকরা আরও বলেন, ‘এখনো পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাই এই সময়ে একসঙ্গে কলেজের ৭ সিনিয়র শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত অমানবিক এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জটিলতা তৈরি হবে।’
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম বলেন, ‘আমি বুধবার (২২ জুলাই) এ কলেজে যোগদান করেছি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না। তবে ভবিষ্যতে এ পরীক্ষাকেন্দ্রে আর যাতে জলাবদ্ধতা তৈরি না হয়, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বদলির আদেশে তো পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা কিংবা কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এমন বদলি সব সময়ই হয়ে থাকে। এ বদলির সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি জড়িত কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না।’
গত ১৮ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এ সময় তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে তিনি সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে এই কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ওই সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু ছোট নৌকা ও ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকেরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নিয়ে যান কেন্দ্রে। তখন কেউ কেউ পানি মাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কুমিল্লাসহ সারা দেশে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। এই কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে সমালোচনার মুখে কেন্দ্র স্থানান্তরের পর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নগরীর ছাতিপট্টি এলাকায় ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন