সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হাসিনাকে তাড়িয়েছি; যদি আপনারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তবে আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে। দেশের মানুষ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।’
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তনের জন্য ও সংস্কারের জন্য গণভোটে রায় দিয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। আমরা এই রায়কে অপমান করতে দেব না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফল হবে। বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না।’
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তারাও একসময় মজলুম ছিলেন। কিন্তু এখন তারা বেপরোয়া দলীয়করণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি জনগণের ম্যান্ডেট ভুলে যায়, তবে তার পরিণতি সরকার ও তারেক রহমানকেই ভোগ করতে হবে।’
তিনি দাবি করেন, সংস্কার না করে বিএনপি কেবল ‘সংশোধনের’ কথা বলে দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করছে।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “এই ঐক্য কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, এটি হয়েছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।” সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেললে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নিতে হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, ঢাকা মহাসমাবেশের আগে দাবি মানা না হলে একদফা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের ডাক দেওয়া হবে।
সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্যবাদ আর ফিরবে না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিকীকরণ এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করাসহ আঞ্চলিক নানা দাবি উত্থাপন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন