সময়টা ১৯৯২ সালের ৯ নভেম্বর। দিবাগত রাত দেড়টা। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার অদূরে নিভৃত গ্রাম মূলপাড়া। শখের খামারে হঠাৎ কোনো অদ্ভুত জন্তু সদৃশের উপস্থিতি টের পায় তারা। প্রায় ৪ কেজি ওজনের বড় মোরগটা মেরে ফেলে জন্তুটি,বাকি হাস মুরগীদেরও ছিন্নভিন্ন অবস্থা। প্রচন্ড সাহসী রাজু মিয়া তখন ঘর থেকে তালের ডাসা নিয়ে এসে আঘাত করতে গেলে ভয়াল জন্তুটি বার বার তেড়ে আসে তাকে আক্রমনের উদ্দেশ্যে।তারপরও রাজু মিয়া ভয় না পেয়ে সজোড়ে উপর্যুপরি আঘাতে মেরে ফেলে জন্তুটিকে।
রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে জন্তুটির সঠিক পরিচয় পুরোপুরি ঠাহর করতে না পেরে বাহিরে রাখা খড়ের গাদায় জন্তুটিকে লুকিয়ে রেখে সেই রাতের মত ঘুমিয়ে যায় তারা।
পরদিন সকালে গ্রামবাসীর চোখ চড়কগাছ। সেটি সাধারণ কোনো প্রাণী নয়, প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। মুহূর্তেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামান্তরে। লোকমুখে রেজাউল হক রাজু হয়ে যান ‘বাঘা রাজু’। কথিত আছে, পার্বত্য এলাকা থেকে লোকালয়ে আসা ওই চিতাবাঘটি আগে জিনারদীতে এক শিশুকে খেয়ে ফেলেছিল এবং বেশ কিছু গবাদিপশু মেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।
সেই বাঘ ও বাঘা রাজুকে একনজর দেখতে দিগ্বিদিক থেকে মানুষ ছুটে আসে। মানুষের ভিড়ে ভেলানগর-চরনগরদী ও পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এমনকি রাস্তার ঘাস পর্যন্ত মানুষের পদভারে মাটিতে মিশে গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা স্মৃতিচারণা করেন। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়ে ১২ নভেম্বর তৎকালীন নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল হুদার কাছে বাঘের দেহটি সোপর্দ করেন রাজু মিয়া।
৭৫ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে অবসরে আছেন। সম্প্রতি তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কেবল সাহসী যোদ্ধা নন, একজন শৌখিন সংগ্রাহকও বটে। তার সংগ্রহে রয়েছে কয়েকশ বছর আগের পাথরের প্লেট, পিতলের কলস, কাসার পাগড়ি, তামার চুড়ি ও প্রাচীন কুয়োর কাটাসহ নানা প্রত্নসামগ্রী। এছাড়া ১৮০৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সযত্নে জমিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে সব সংগ্রহের ভিড়ে আজও সগৌরবে টিকে আছে সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘তালের ডাসা’টি, যা দিয়ে তিনি বাঘ মেরেছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে সফল এই বীরের সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশে-বিদেশে কর্মরত। স্বাধীনতার যুদ্ধে লড়াই করা এই অকুতোভয় মানুষটি আজও নরসিংদীবাসীর কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
\

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
সময়টা ১৯৯২ সালের ৯ নভেম্বর। দিবাগত রাত দেড়টা। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার অদূরে নিভৃত গ্রাম মূলপাড়া। শখের খামারে হঠাৎ কোনো অদ্ভুত জন্তু সদৃশের উপস্থিতি টের পায় তারা। প্রায় ৪ কেজি ওজনের বড় মোরগটা মেরে ফেলে জন্তুটি,বাকি হাস মুরগীদেরও ছিন্নভিন্ন অবস্থা। প্রচন্ড সাহসী রাজু মিয়া তখন ঘর থেকে তালের ডাসা নিয়ে এসে আঘাত করতে গেলে ভয়াল জন্তুটি বার বার তেড়ে আসে তাকে আক্রমনের উদ্দেশ্যে।তারপরও রাজু মিয়া ভয় না পেয়ে সজোড়ে উপর্যুপরি আঘাতে মেরে ফেলে জন্তুটিকে।
রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে জন্তুটির সঠিক পরিচয় পুরোপুরি ঠাহর করতে না পেরে বাহিরে রাখা খড়ের গাদায় জন্তুটিকে লুকিয়ে রেখে সেই রাতের মত ঘুমিয়ে যায় তারা।
পরদিন সকালে গ্রামবাসীর চোখ চড়কগাছ। সেটি সাধারণ কোনো প্রাণী নয়, প্রায় ২০ কেজি ওজনের একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। মুহূর্তেই এই খবর ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে গ্রামান্তরে। লোকমুখে রেজাউল হক রাজু হয়ে যান ‘বাঘা রাজু’। কথিত আছে, পার্বত্য এলাকা থেকে লোকালয়ে আসা ওই চিতাবাঘটি আগে জিনারদীতে এক শিশুকে খেয়ে ফেলেছিল এবং বেশ কিছু গবাদিপশু মেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।
সেই বাঘ ও বাঘা রাজুকে একনজর দেখতে দিগ্বিদিক থেকে মানুষ ছুটে আসে। মানুষের ভিড়ে ভেলানগর-চরনগরদী ও পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এমনকি রাস্তার ঘাস পর্যন্ত মানুষের পদভারে মাটিতে মিশে গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা স্মৃতিচারণা করেন। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়ে ১২ নভেম্বর তৎকালীন নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল হুদার কাছে বাঘের দেহটি সোপর্দ করেন রাজু মিয়া।
৭৫ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে অবসরে আছেন। সম্প্রতি তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কেবল সাহসী যোদ্ধা নন, একজন শৌখিন সংগ্রাহকও বটে। তার সংগ্রহে রয়েছে কয়েকশ বছর আগের পাথরের প্লেট, পিতলের কলস, কাসার পাগড়ি, তামার চুড়ি ও প্রাচীন কুয়োর কাটাসহ নানা প্রত্নসামগ্রী। এছাড়া ১৮০৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা সযত্নে জমিয়ে রেখেছেন তিনি। তবে সব সংগ্রহের ভিড়ে আজও সগৌরবে টিকে আছে সেই স্মৃতিবিজড়িত ‘তালের ডাসা’টি, যা দিয়ে তিনি বাঘ মেরেছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে সফল এই বীরের সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশে-বিদেশে কর্মরত। স্বাধীনতার যুদ্ধে লড়াই করা এই অকুতোভয় মানুষটি আজও নরসিংদীবাসীর কাছে এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
\

আপনার মতামত লিখুন