সংবাদ

শরীয়তপুর চরের নৌ অ্যাম্বুলেন্স: একটি নিখোঁজ, অন্যটি নদীর নিচে


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

শরীয়তপুর চরের  নৌ অ্যাম্বুলেন্স: একটি নিখোঁজ, অন্যটি নদীর নিচে
ছবি : সংবাদ

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসার জন্য দেওয়া দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। চালক ও জ্বালানি বরাদ্দের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকতে থাকতে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স এখন নদীতে নিমজ্জিত, অন্যটির কোনো হদিস মিলছে না।

পদ্মা নদীর ১০টি চরে নড়িয়া ও জাজিরার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌযান হওয়ায় প্রসূতিসহ জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। স্পিডবোটভিত্তিক এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতায় সেগুলো মানুষের কাজে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল থেকে চার কিলোমিটার দূরে কীর্তিনাশা নদীর তীরে লঞ্চঘাট এলাকায় পানিতে ডুবে আছে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহ জালাল বলেন, ‘চালক ও তেলের ব্যবস্থা না থাকায় এটি কখনোই চালানো সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে, জাজিরা উপজেলার জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটি রাখা ছিল মঙ্গলমাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে। কয়েক বছর ধরে সেটির কোনো খোঁজ নেই। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রোমান বাদশা বলেন, ‘নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সম্ভবত চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় গত দেড় বছরে কুন্ডেরচর ইউনিয়নে অন্তত তিন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন শাহিদা আক্তার (২৫), মিতু আক্তার (২২) ও নুরুন্নাহার (২৭)। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আলী মল্লিক বলেন, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো তার বোন মিতুকে অকালে মরতে হতো না।

কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছিলাম চরের মানুষের জন্য অ্যাম্বুলেন্স এসেছে, কিন্তু কখনো তা চলতে দেখিনি। চিকিৎসার অভাবে মানুষ জীবন দিচ্ছে।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স দুটির বর্তমান অবস্থা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্কারের মাধ্যমে সচল করা সম্ভব হলে সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


শরীয়তপুর চরের নৌ অ্যাম্বুলেন্স: একটি নিখোঁজ, অন্যটি নদীর নিচে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসার জন্য দেওয়া দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। চালক ও জ্বালানি বরাদ্দের অভাবে অব্যবহৃত পড়ে থাকতে থাকতে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স এখন নদীতে নিমজ্জিত, অন্যটির কোনো হদিস মিলছে না।

পদ্মা নদীর ১০টি চরে নড়িয়া ও জাজিরার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌযান হওয়ায় প্রসূতিসহ জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। স্পিডবোটভিত্তিক এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতায় সেগুলো মানুষের কাজে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল থেকে চার কিলোমিটার দূরে কীর্তিনাশা নদীর তীরে লঞ্চঘাট এলাকায় পানিতে ডুবে আছে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহ জালাল বলেন, ‘চালক ও তেলের ব্যবস্থা না থাকায় এটি কখনোই চালানো সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে, জাজিরা উপজেলার জন্য বরাদ্দ অ্যাম্বুলেন্সটি রাখা ছিল মঙ্গলমাঝি-সাত্তার মাদবর ঘাটে। কয়েক বছর ধরে সেটির কোনো খোঁজ নেই। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রোমান বাদশা বলেন, ‘নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সম্ভবত চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় গত দেড় বছরে কুন্ডেরচর ইউনিয়নে অন্তত তিন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন শাহিদা আক্তার (২৫), মিতু আক্তার (২২) ও নুরুন্নাহার (২৭)। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আলী মল্লিক বলেন, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো তার বোন মিতুকে অকালে মরতে হতো না।

কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ব্যাপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছিলাম চরের মানুষের জন্য অ্যাম্বুলেন্স এসেছে, কিন্তু কখনো তা চলতে দেখিনি। চিকিৎসার অভাবে মানুষ জীবন দিচ্ছে।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স দুটির বর্তমান অবস্থা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্কারের মাধ্যমে সচল করা সম্ভব হলে সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত