সংবাদ

এনআইসিইউ নেই, অকালে ঝরছে নবজাতকের প্রাণ


​নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর (চট্টগ্রাম)
​নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম

এনআইসিইউ নেই, অকালে ঝরছে নবজাতকের প্রাণ
চিকিৎসার অভাবে অকালেই ঝরছে চাঁদপুরের শিশুরা। ছবি : সংবাদ

সন্তানসম্ভবা মায়ের আনন্দ আর বাবার আকাশছোঁয়া স্বপ্ন মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিচ্ছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করিডোরে। সন্তানের মরদেহ কোলে নিয়ে বাবার নির্বাক বসে থাকা আর মায়ের আর্তনাদ এখন মেঘনাপাড়ের এই শহরের এক নির্মম বাস্তবতা। জেলাজুড়ে নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুচিকিৎসা এবং জরুরি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) অভাবে চাঁদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতি মাসে বহু নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই নবজাতকের এনআইসিইউ ও এসকানু (SCANU) সেবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

সরকারি হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসকানু ইউনিট থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর, সি-প্যাপ (CPAP) মেশিন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিলতা দেখলেই চিকিৎসকেরা শিশুদের ঢাকা বা কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা পৌঁছানোর তিন-চার ঘণ্টার দীর্ঘ পথ অনেক নবজাতকের জন্য ‘মৃত্যুপথ’ হয়ে দাঁড়ায়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সেবায় নার্সদের ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলায় নবজাতকের ইকোকার্ডিওগ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বেসরকারি ক্লিনিকে সেবার নামে বাণিজ্য
সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকটের সুযোগ নিচ্ছে নামসর্বস্ব প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো। অধিকাংশ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। অনভিজ্ঞ নার্স ও আয়াদের ওপর ভর করেই চলে এনআইসিইউ কার্যক্রম। অথচ ঢাকার নামী হাসপাতালের চেয়েও চাঁদপুরের এসব ক্লিনিকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। মতলবের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চার সামান্য শ্বাসকষ্টের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে দুদিনে ৪০ হাজার টাকা বিল দিল। কিন্তু অবস্থা খারাপ হলে রেফার করল। অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার ১০ মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল।’

বিশেষজ্ঞদের মত ও সুপারিশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক মৃত্যুর প্রধান কারণ জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া (প্রিম্যাচিউর বার্থ) এবং সংক্রমণ। সঠিক সময়ে সি-প্যাপ সাপোর্ট পেলে অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব। এই সংকট কাটাতে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দ্রুত অন্তত ৫০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ এনআইসিইউ ইউনিট চালু করা এবং জেলা পর্যায়ে নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ (নিওন্যাটোলজিস্ট) নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ভুয়া এনআইসিইউর নামে বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


এনআইসিইউ নেই, অকালে ঝরছে নবজাতকের প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সন্তানসম্ভবা মায়ের আনন্দ আর বাবার আকাশছোঁয়া স্বপ্ন মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিচ্ছে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করিডোরে। সন্তানের মরদেহ কোলে নিয়ে বাবার নির্বাক বসে থাকা আর মায়ের আর্তনাদ এখন মেঘনাপাড়ের এই শহরের এক নির্মম বাস্তবতা। জেলাজুড়ে নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুচিকিৎসা এবং জরুরি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) অভাবে চাঁদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতি মাসে বহু নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ক্ষেত্রেই নবজাতকের এনআইসিইউ ও এসকানু (SCANU) সেবার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

সরকারি হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসকানু ইউনিট থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর, সি-প্যাপ (CPAP) মেশিন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিলতা দেখলেই চিকিৎসকেরা শিশুদের ঢাকা বা কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা পৌঁছানোর তিন-চার ঘণ্টার দীর্ঘ পথ অনেক নবজাতকের জন্য ‘মৃত্যুপথ’ হয়ে দাঁড়ায়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সেবায় নার্সদের ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলায় নবজাতকের ইকোকার্ডিওগ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বেসরকারি ক্লিনিকে সেবার নামে বাণিজ্য
সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকটের সুযোগ নিচ্ছে নামসর্বস্ব প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো। অধিকাংশ ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। অনভিজ্ঞ নার্স ও আয়াদের ওপর ভর করেই চলে এনআইসিইউ কার্যক্রম। অথচ ঢাকার নামী হাসপাতালের চেয়েও চাঁদপুরের এসব ক্লিনিকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। মতলবের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চার সামান্য শ্বাসকষ্টের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে দুদিনে ৪০ হাজার টাকা বিল দিল। কিন্তু অবস্থা খারাপ হলে রেফার করল। অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার ১০ মিনিটেই সব শেষ হয়ে গেল।’

বিশেষজ্ঞদের মত ও সুপারিশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক মৃত্যুর প্রধান কারণ জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া (প্রিম্যাচিউর বার্থ) এবং সংক্রমণ। সঠিক সময়ে সি-প্যাপ সাপোর্ট পেলে অনেক শিশুকে বাঁচানো সম্ভব। এই সংকট কাটাতে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দ্রুত অন্তত ৫০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ এনআইসিইউ ইউনিট চালু করা এবং জেলা পর্যায়ে নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ (নিওন্যাটোলজিস্ট) নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ভুয়া এনআইসিইউর নামে বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত