সংবাদ

বরিশালবাসীর সড়ক যাত্রায় ভোগান্তি


 জেআই জুয়েল,বরিশাল
জেআই জুয়েল,বরিশাল
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

বরিশালবাসীর সড়ক যাত্রায় ভোগান্তি
ছবি : সংবাদ

বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলোর সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, পথে পথে লোকাল যাত্রী তোলা এবং বাসের নিম্নমানকে এই দুর্ভোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ভুক্তভোগীরা।

ঝালকাঠির যাত্রী মোখলেছুর রহমান তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সাকুরা পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু বাসের মান দেখে হতাশ হয়েছি। একদিকে সড়ক ভাঙাচোরা, অন্যদিকে গাড়িটি পথে পথে লোকাল যাত্রী তুলে আসছে। এতে সময় অনেক বেশি লাগছে।’ কামাল নামের আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বরিশালে উন্নত মানের কোনো পরিবহন নেই। সড়কপথে যেগুলো চলাচল করে, সেগুলোর মান ও নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় সংশয়ে থাকি।’

তবে যাত্রীসেবার মান নিয়ে পরিবহনশ্রমিকদের ভিন্ন যুক্তি রয়েছে। হানিফ পরিবহনের চালক ও সহকারীরা জানান, সড়ক সরু এবং বরিশাল থেকে মাওয়া-ভাঙা পর্যন্ত রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। এই দুরবস্থার মধ্যেও যাত্রীরা দ্রুত যাওয়ার জন্য চাপ দেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। ইমাদ পরিবহনের সুপারভাইজার নাসির উদ্দীন বলেন, ‘বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে সব পরিবহনেরই নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টার থাকে। সেখানে থামানো কোনো ভোগান্তি নয়, বরং এটি রুটের নিয়ম।’

যাত্রীসেবার মান নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা যদি ৩০০ টাকা দিয়ে বাসে উঠে ৬০০ টাকার মান খোঁজেন, সেটি তো সম্ভব নয়।’ তিনি সাকুরা, হানিফ, সোহাগ বা গ্রিন লাইনের মতো কিছু ব্র্যান্ড পরিবহনের কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্য পরিবহনগুলো এদের মতো সেবা দিতে পারে না এবং মালিক সমিতির সঙ্গেও অনেক সময় সমন্বয় করে না। তবে সড়কের উন্নয়ন হলে এবং নিয়ম মেনে চললে যাত্রীসেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সড়কপথ। তাই যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


বরিশালবাসীর সড়ক যাত্রায় ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসগুলোর সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, পথে পথে লোকাল যাত্রী তোলা এবং বাসের নিম্নমানকে এই দুর্ভোগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ভুক্তভোগীরা।

ঝালকাঠির যাত্রী মোখলেছুর রহমান তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সাকুরা পরিবহনের একটি বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু বাসের মান দেখে হতাশ হয়েছি। একদিকে সড়ক ভাঙাচোরা, অন্যদিকে গাড়িটি পথে পথে লোকাল যাত্রী তুলে আসছে। এতে সময় অনেক বেশি লাগছে।’ কামাল নামের আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বরিশালে উন্নত মানের কোনো পরিবহন নেই। সড়কপথে যেগুলো চলাচল করে, সেগুলোর মান ও নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় সংশয়ে থাকি।’

তবে যাত্রীসেবার মান নিয়ে পরিবহনশ্রমিকদের ভিন্ন যুক্তি রয়েছে। হানিফ পরিবহনের চালক ও সহকারীরা জানান, সড়ক সরু এবং বরিশাল থেকে মাওয়া-ভাঙা পর্যন্ত রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। এই দুরবস্থার মধ্যেও যাত্রীরা দ্রুত যাওয়ার জন্য চাপ দেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। ইমাদ পরিবহনের সুপারভাইজার নাসির উদ্দীন বলেন, ‘বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে সব পরিবহনেরই নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টার থাকে। সেখানে থামানো কোনো ভোগান্তি নয়, বরং এটি রুটের নিয়ম।’

যাত্রীসেবার মান নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা যদি ৩০০ টাকা দিয়ে বাসে উঠে ৬০০ টাকার মান খোঁজেন, সেটি তো সম্ভব নয়।’ তিনি সাকুরা, হানিফ, সোহাগ বা গ্রিন লাইনের মতো কিছু ব্র্যান্ড পরিবহনের কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্য পরিবহনগুলো এদের মতো সেবা দিতে পারে না এবং মালিক সমিতির সঙ্গেও অনেক সময় সমন্বয় করে না। তবে সড়কের উন্নয়ন হলে এবং নিয়ম মেনে চললে যাত্রীসেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সড়কপথ। তাই যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত