সংবাদ

​বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

​বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে রয়েছে এবং আগামীতে এই সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও গভীর করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

​বৃহস্পতিবার রাতে সফররত মার্কিন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

​পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ-মার্কিন বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে কীভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক বৈঠক হয়েছিল এবং সেই সফরের অংশ হিসেবে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

​দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর মাধ্যমেই নয়, বরং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও মার্কিন বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় করছে। এটি দু'দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত।

​যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি স্পষ্ট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের আইনি ব্যাখ্যা ও পরবর্তীতে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তদন্ত শেষে বাংলাদেশের জন্য শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ।

​তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশের ক্ষেত্রে এই হার ১২ বা ১২.৫ শতাংশ হলেও বাংলাদেশ ১০ শতাংশের সুবিধা পেয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ট্যারিফ কোটা ব্যবস্থা’ (Tariff Quota System) চালু করেছে। ফলে বাংলাদেশি পোশাকে মার্কিন তুলা বা ম্যান-মেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে মার্কিন বাজারে আরও সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার মিলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ আসিয়ানভুক্ত অল্প কয়েকটি দেশ এই সুবিধা পেয়েছে।

​রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা পায়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ওয়াশিংটন ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মিয়ানমারের ওপর নতুন চাপ বা এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়নি।

​পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার জানান, আজকের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে আওয়ামী লীগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, কিংবা কোনো ধরনের ‘মানবিক করিডোর’ তৈরির রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

​মানবাধিকার ইস্যু ও র‍্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি নিয়ে নিয়মিত কথা হলেও আজকের বৈঠকে র‍্যাব নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।

​ড. খলিলুর রহমান জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে, তাই এ দায়িত্ব পালনে মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে তাঁর বৈশ্বিক যোগাযোগ ও গঠনমূলক আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​এ ছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী সভ্যতার মূল ভিত্তি হতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তির বিভিন্ন কাঠামো রূপ নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, তাই এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


​বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে রয়েছে এবং আগামীতে এই সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও গভীর করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

​বৃহস্পতিবার রাতে সফররত মার্কিন মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

​পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ-মার্কিন বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে কীভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

​তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক বৈঠক হয়েছিল এবং সেই সফরের অংশ হিসেবে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

​দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর মাধ্যমেই নয়, বরং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও মার্কিন বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় করছে। এটি দু'দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত।

​যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি স্পষ্ট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের আইনি ব্যাখ্যা ও পরবর্তীতে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তদন্ত শেষে বাংলাদেশের জন্য শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ শতাংশ।

​তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশের ক্ষেত্রে এই হার ১২ বা ১২.৫ শতাংশ হলেও বাংলাদেশ ১০ শতাংশের সুবিধা পেয়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ট্যারিফ কোটা ব্যবস্থা’ (Tariff Quota System) চালু করেছে। ফলে বাংলাদেশি পোশাকে মার্কিন তুলা বা ম্যান-মেইড ফাইবার ব্যবহার করা হলে মার্কিন বাজারে আরও সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার মিলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ আসিয়ানভুক্ত অল্প কয়েকটি দেশ এই সুবিধা পেয়েছে।

​রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা পায়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ওয়াশিংটন ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মিয়ানমারের ওপর নতুন চাপ বা এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশলগত বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়নি।

​পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষ্কার জানান, আজকের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে আওয়ামী লীগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, কিংবা কোনো ধরনের ‘মানবিক করিডোর’ তৈরির রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

​মানবাধিকার ইস্যু ও র‍্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি নিয়ে নিয়মিত কথা হলেও আজকের বৈঠকে র‍্যাব নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।

​ড. খলিলুর রহমান জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে, তাই এ দায়িত্ব পালনে মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে তাঁর বৈশ্বিক যোগাযোগ ও গঠনমূলক আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​এ ছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী সভ্যতার মূল ভিত্তি হতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তির বিভিন্ন কাঠামো রূপ নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, তাই এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত