চলমান তীব্র গ্যাস সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর নীতির প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সংগঠনটি জ্বালানি খাতে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না প্রমুখ।
সমাবেশে সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে অবিলম্বে ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমেরিকার কাছ থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানির জন্য এটা কৃত্রিম সংকট কিনা- জনগণ তা জানতে চায়।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েও নিয়মিত গ্যাস বিল আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘যতক্ষণ নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ জনগণের কাছ থেকে গ্যাসের বিল আদায় করা যাবে না।’
সিপিবি নেতারা বলেন, জ্বালানি খাতকে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার নীতি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তারা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত জি-টু-জি জ্বালানি চুক্তি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে শক্তিশালী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এলএনজি আমদানি ও বিদেশনির্ভর জ্বালানিনীতি থেকে সরে এসে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের ন্যায্য জ্বালানি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিটি থানায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
চলমান তীব্র গ্যাস সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর নীতির প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সংগঠনটি জ্বালানি খাতে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় তিতাস গ্যাস ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য রাগীব আহসান মুন্না প্রমুখ।
সমাবেশে সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে অবিলম্বে ভর্তুকি বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমেরিকার কাছ থেকে এলএনজি গ্যাস আমদানির জন্য এটা কৃত্রিম সংকট কিনা- জনগণ তা জানতে চায়।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েও নিয়মিত গ্যাস বিল আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘যতক্ষণ নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ জনগণের কাছ থেকে গ্যাসের বিল আদায় করা যাবে না।’
সিপিবি নেতারা বলেন, জ্বালানি খাতকে বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার নীতি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তারা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত জি-টু-জি জ্বালানি চুক্তি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে শক্তিশালী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এলএনজি আমদানি ও বিদেশনির্ভর জ্বালানিনীতি থেকে সরে এসে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জনগণের ন্যায্য জ্বালানি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিটি থানায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন