পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক স্থবিরতা এখন চরমে। একসময়ের রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ইউনিটটি কেন হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, পদধারী নেতাদের পেশাগত ব্যস্ততা, দীর্ঘ সাত বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া এবং তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতাই এই স্থবিরতার মূল রহস্য।
সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঘোষিত কর্মসূচিও পালন করতে পারেনি দুমকি উপজেলা শাখা। এমনকি সরকারি জনতা কলেজ ও আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ শাখাও ছিল নিশ্চুপ। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অভিযোগ, রাজপথের রাজনীতি ছেড়ে নেতারা এখন ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনে বেশি মনোযোগী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর চাকলাদার গোলাম সরওয়ারকে আহ্বায়ক এবং সুমন শরীফকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছিল। ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশ থাকলেও প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি উপজেলার কোনো ইউনিয়নেও কমিটি দিতে পারেনি বর্তমান নেতৃত্ব।
কেন এই স্থবিরতা? স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমান কমিটির অধিকাংশ যুগ্ম আহ্বায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা এখন আর ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নন। কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ সাংবাদিকতা, আবার কেউ ব্যবসায়িক কাজে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির চেয়ে তাদের কাছে ব্যক্তিগত পেশা বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। সদস্য সচিব সুমন শরীফের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং আহ্বায়ক চাকলাদার গোলাম সরওয়ার ফোন ধরেননি।
পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ বলেন, ‘দুমকি উপজেলা ছাত্রদল কেন কর্মসূচি পালন করেনি, আমরা তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। সাংগঠনিক স্থবিরতা ভাঙতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন